নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দুই স্থানে এক সপ্তাহ ধরে মেলা চলছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী মাসব্যাপী এসব মেলার আয়োজন করেছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি না থাকলেও স্থানীয় এমপি মেলা বসানোর অনুমতি দিয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান তা অস্বীকার করেছেন।
উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের জামপুর মাঠ এবং বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকায় নেকবর আলী মুন্সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে অবৈধভাবে এসব মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
জামপুর খেলার মাঠে ‘শিশুকিশোর বিনোদন মেলা’ বসিয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, জামপুর ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বিএনপি কর্মী শাহিন আলম ও আমির হোসেন। আর হাড়িয়া এলাকায় ‘আনন্দমেলা’ বসিয়েছেন বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের যুবদল কর্মী আবু তাহের ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ইউনুস মিয়া।
মেলায় নাগরদোলা, ইলেকট্রিক নৌকা, পুতুল নাচ, খেলনা, কসমেটিকস, মুড়িমুড়কি, ফুচকাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের শতাধিক দোকানপাট বসেছে। তবে এর আড়ালে জুয়া খেলা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, মেলায় বসানো খেলনা, কসমেটিকস ও ফুচকার দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক নৌকা ও নাগরদোলা থেকে এক মাসের জন্য ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মেলার ভেতরে বসানো হয়েছে লটারির নামে জুয়ার আসর। প্রতিদিন উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
বৈদ্যেরবাজার নেকবর আলী মুন্সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, স্কুল চলাকালীনও মেলা খোলা থাকে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে না এসে মেলায় গিয়ে ঢুকছে। স্থানীয় নেতারা মেলা বসানোর কারণে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
জামপুর খেলার মাঠে মেলার আয়োজক সোনারগাঁ উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান বলেন, মেলায় ছোট ছোট পেলাপান ফুর্তিফার্তি করে, তাই মেলা বসানো হয়েছে। এ মেলায় প্রশাসনের অনুমতি নেই। তবে এমপি সাহেব সরাসরি অনুমোদন দিয়েছেন। মেলায় জুয়া ও মাদকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। জুয়া ও মাদকের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না বলে দাবি করেন তিনি।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার মেলার আয়োজক যুবদল কর্মী আবু তাহের বলেন, একার পক্ষের এমন মেলার আয়োজন সম্ভব নয়। আমিসহ অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মেলা বসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনারগাঁ ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মেলার অনুমোদনের কোনো চিঠি থানায় জমা হয়নি। মেলা বসানোর বিষয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে। জামপুরের মেলা বন্ধ করার জন্য তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যেরবাজার মেলা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ এসব মেলা উচ্ছেদে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, এসব মেলা বসানোর বিষয়ে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ মেলা দুটি উচ্ছেদ করা হবে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ডিসি অফিস থেকে মেলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে মেলা বসালে তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, কাউকে মেলা বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। মেলা বসানোর অনুমতি ডিসি অফিস থেকে দেওয়া হয়। যেহেতু এসব মেলা অবৈধ, তাই উচ্ছেদের জন্য অবশ্যই প্রশাসনকে অনুরোধ করা হবে।


































