সিদ্ধিরগঞ্জে বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে জাকির হোসেন ওরফে কাইল্লা জাকির। মিজমিজি, পাইনাদি ও নতুন মহল্লা এলাকায় তার সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ভুমিদস্যুতাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালীদের শেল্টারে একটি বাহিনী গড়ে তুলে এসব অপরাধ কর্মকান্ড অবাধে করছে জাকির। এতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রতিবাদ করলে কিম্বা আইনের আশ্রয় নিলে পড়তে হয় নানা বিপাকে। কাইল্লা জাকিরের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছে সে।
সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এখন অপরাধ জগতের একটি পরিচিত নাম "কাইল্লা জাকির"। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে সে মিজমিজি, পাইনাদি ও নতুন মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
জাকিরের বিরুদ্ধে এলাকায় বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ কাজের সময় মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির জমি ক্রয়ের পর ভবন নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়।
সাধারণ মানুষের জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার মতো ভূমিদস্যুতার অভিযোগ রয়েছে তার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। এলাকায় নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকায় সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা, দেশীয় অস্ত্রের মুখে ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী মহড়া দেওয়ার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় জাকির একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় মো. মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। মিজানুর রহমান ঐ এলাকায় ৫ কাঠা জায়গা ক্রয় করে নির্মাণ কাজ করতে গেলে বাধা দেয় কাইল্লা জাকির ও কোটিপতি মনির।
একপর্যায়ে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায় এবং ওই জমিতে নির্মাণ কাজ করতে হলে তাদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে জানায়। দাবিকৃত ওই টাকা না নিয়ে নির্মাণ কাজ করলে তাকে জানে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় তারা।
সর্বশেষ মিজমিজি এলাকার মোসা: সুফিয়া আলী নামে এক নারী জাকির ও তার সহযোগী ৬ জনের নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জমি দখলের চেষ্টা ও বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, তার পিতার নিকট থেকে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত দশ শতাংশ জমি জাকির দখলের পায়তারা করছে। সে লক্ষে জাকির জমিতে বালু ভরাট করে। এতে বাধা দিলে হুমকি-ধামকি প্রদান সহ বিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, কাইল্লা জাকির ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজি ও অসহায় মানুষদের বিচার শালিশির নামে চাঁদা আদায় করা নিত্য দিনের রুটিনে পরিণত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাকির সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জুয়েলের ভাতিজা। বিএনপি সরকার গঠন করার পর জাকিরের সাহস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫-ই আগষ্টের পরে সে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে গেছে। কিছুদিন পর পর নতুন নতুন বাইকে চড়ে। কিছুদিন একটি প্রাইভেট কারও ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এখন নিজের নামে জমিও কিনতে চাচ্ছে। মানুষ এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়ছে জাকির ও তার শেল্টারদাতাদের কাছে।


































