নারায়ণগঞ্জ মহানগর ওলামলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুব হোসেন মানিকের গোপন মিশন চলছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফিরে আসার ঘোষণার পর সিদ্ধিরগঞ্জের পলাতক আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে সে। এজন্য ৪টি সিম ব্যবহার করছে মানিক। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে তার মোবাইলের কল লিস্ট চেক করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার লোকজন। তারা বলছেন, মানিক অনেক চতুর। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে দিনের বেলা খুব একটা চলাচল করে না। তার কার্যক্রম শুরু হয় রাতের বেলা। একাধিক সোর্স মেন্টেন করে সে। সোর্সের মাধ্যমে সে চারদিকে খোঁজ খবর রাখে। পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান থাকায় অনেকটা সতর্কভাবে চলাফেরা করে আওয়ামী দোসর মানিক।
মানিকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের শেল্টারে নানা অপকর্ম চালিয়েছে মানিক। এক পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা শামীম ওসমানের সাথে কৌশলে ছবি তোলে মানিক। ওই ছবি পূজি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সে। এবং বিভিন্নজনকে নানাভাবে হয়রানী করে ওলামালীগের নেতা মানিক।
এলাকায় বলে বেড়াতো শামীম ওসমানের সাথে তার ভালো সম্পর্ক। কেউ তার কিছু করতে পারবে না। একদিকে শামীম ওসমানের সাথে ছবি অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের শেল্টারে মানিক এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। জমি বিক্রি করে আবার নিজেই পরবর্তীতে বলে ওই জমিতে ওয়ারিশ আছে অথবা বলে পরিমানের চেয়ে জমি বেশী দখলে আছে। তাই জমি ছাড়তে হবে। এই বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। অনেকেই নিরুপায় হয়ে ঝামেলাা এড়াতে বাধ্য হয় মানিকের অন্যায় আবদার শুনতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়েও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মানিক।
আওয়ামীগের আমলে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে টাকার বিনিময়ে সখ্যতা গড়ে তোলে মানিক। এবং সে তার প্রতিপক্ষের লোকজনকে প্রশাসন দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছে। এখন আবার হুমকি দিচ্ছে, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা ফিরবে, তখন দেখে নিবে।
এদিকে ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর মানিক রোষানলের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়ে থাকে। এবং তার বিরুদ্ধে যাতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলা না হয় এ জন্য সে বিএনপি কতিপয় নেতাদের পেছনে মোটা অংকের টাকা খরচ করেছে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা হয়।
এক পর্যায়ে বেশ কিছুদিন পালিয়ে থাকার পর কৌশলে স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতাদের সাথে আতাত করে এলাকায় ফিরে আসে মানিক। এরপর ধুরুন্ধবাজ মানিক একদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদেন সঙ্গে আতাত রেখে চলছে অন্যদিকে গোপনে আওয়ামীলীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ দেখা শোনা করছে মানিক।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একাধিক জনের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের দোসর অনেকেই ৫ আগস্টের পর পালিয়ে গেছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের দোসর মানিক এলাকায় বিচরণ করছে কিভাবে? কারা তাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে? শুধু তাই নয়, সে বলে, নেত্রী (শেখ হাসিনা) ফিরে আসলে নাকি সে দেখে নিবে।
বর্তমানেরও কেউ তার কিছু করতে পারবে না। সবাইকে সে ম্যানেজ করে ফেলেছে। অথচ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানসহ পলাতক আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে মানিকের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
তারা আরও বলেন, মানিককে আইনের আওতায় নেয়া হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় আসামি হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জের পলাতক অনেক আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের অবস্থান জানা যাবে। মানিকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন মানিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ওলামালীগ নেতা মাহবুব হোসেন মানিকের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। মিজমিজি এলাকায় বসবাস করলেও বতর্মানে মানিক হিরাঝিল এলাকায় বসবাস করছে।


































