নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ. এম. আনোয়ার প্রধান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেওয়া লিখিত জবাবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
শোকজের জবাবে আনোয়ার প্রধান বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার অনুপস্থিতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত অংশ নিয়েছেন দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলেও তিনি নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের আগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় ২১টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয় এবং প্রায় ১২৫ দিন তিনি কারাগারে ছিলেন।
৬ অক্টোবরের আদালতপাড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা
৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে আনোয়ার প্রধান দাবি করেন, ওইদিন জনাব সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে এবং তার বডিগার্ড পুলিশ সদস্যের সহযোগিতায় অ্যাডভোকেট এস. এম. গালিব নারায়ণগঞ্জের দায়রা জজ আদালতের পিপির ওপর অতর্কিত হামলা করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ আইনজীবীরা পিপিকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন। তিনি কোনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি কিংবা কারও ওপর মারমুখী হননি বলেও জবাবে উল্লেখ করেন।
আনোয়ার প্রধান আরও বলেন, সাধারণ আইনজীবীদের হাতে তিনি অবরুদ্ধ হলে তাকে সেখান থেকে উদ্ধারের জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে পিপির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করেন।
অনলাইন বক্তব্য নিয়েও আপত্তি
শোকজের তৃতীয় অভিযোগের জবাবে আনোয়ার প্রধান বলেন, কিছু অনলাইন মিডিয়ায় তার বক্তব্যের আংশিক প্রচার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে শোকজ নোটিশে কোন মিডিয়ায় তিনি কী বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্পেশাল পিপি সুমনকে নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার
স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সুমনকে ঘিরে শোকজে উল্লেখিত অভিযোগও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আনোয়ার প্রধান। তার দাবি, এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া সমীচীন নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়াকে ‘প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী’ দাবি
শোকজ নোটিশে অভিযোগের বিবরণ অস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয় দাবি করে আনোয়ার প্রধান বলেন, জবাব দেওয়ার জন্য মাত্র ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি নিজেকে বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী দাবি করে বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আইনজীবীদের অভ্যন্তরীণ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিবের পক্ষ থেকে তাকে শোকজ করা অযৌক্তিক ও অসমীচীন।
সবশেষে তিনি শোকজে উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু আনোয়ার প্রধানকে শোকজ নোটিশ দেন। এর জবাবেই তিনি এসব বক্তব্য দেন।


































