নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০৩ জুলাই ২০২২

নতুন রূপে ‘খলনায়ক’ গিয়াস উদ্দিন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৪৬, ২ জুন ২০২২

নতুন রূপে ‘খলনায়ক’ গিয়াস উদ্দিন


দীর্ঘ দিনের নিরবতা ভেঙ্গে নারায়ণগঞ্জে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত বিএনপির সাবেক এমপি ‘খলনায়ক’ খ্যাত মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এবার নিজ দলের জেলা পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতাকে হত্যা চেষ্টার মধ্য দিয়ে নতুন ভাবে গিয়াস উদ্দিনের নাম উঠে আসে।

 

দলের নেতাকে হত্যা চেষ্টার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে গিয়াস পুত্র গোলাম কাউসার রিফাতের নাম। এরপরেই নতুন ভাবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসেন পল্টিবাজখ্যাত গিয়াস উদ্দিন।


গত ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র সম্মেলনে সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী নাসিকের ২নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা ইকবালের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার কারণে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সম্মেলন পন্ড হয়ে যায়। ওই ঘটনার ১০ দিন পরেই জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে ঢাকার পুরানা পল্টনে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টা চালানো হয়।

 

প্রথমদিকে বিষয়টি ছিনতাইকারীর হামলা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে মামুন মাহমুদের প্রতিপক্ষের লোকজন। কিন্তু ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার জুয়েল মীর নামে এক হামলাকারীর জবানবন্দির পরেই ঘটনা নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করে। মামুনকে ছুরিকাঘাতের পর সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিনের বক্তব্য, তার ভূমিকা এবং সর্বশেষ এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তে গিয়াস উদ্দিনের ছোট ছেলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ উঠে আসার পর বদলে যায় জেলার রাজনীতির দৃশ্যপট।

 

ওই ঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে পল্টন থানা পুলিশ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়েছে। তবে ওই সময় কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের অভিযানের সময় গিয়াসউদ্দিন বাড়ির পাশের মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন। পুলিশের অভিযান টের পের মসজিদ থেকে সটকে পড়েন তিনি। এবং এর আগেই সটকে পড়েন তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। 


এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে আবারো দীর্ঘদিন পর আলোচিত-সমালোচিত ‘খল নায়ক’ গিয়াস উদ্দিন তার পুরনো রুপে ফিরতে শুরু করেছেন বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

গত ২৫ এপ্রিল মামুনকে ছুরিকাঘাতের পরদিন ২৬ এপ্রিল কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে দুষ্কৃতিকারীরা ছুরির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচার এই সভা থেকে আহŸান করছি।

 

আমাদের দলকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য এবং আমাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্ব›দ্ব সৃষ্টি করার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় মামুন মাহমুদকে আক্রমণ করা হয়েছে। আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে যাতে করে কেউ ষড়যন্ত্র করে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করতে পারে। আমাদের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাতে না-পারে, আন্দোলন সংগ্রামে যাতে কোনো ব্যাঘাত ঘটাতে না-পারে।


এখানে আরো উল্লেখ্য যে, ঘটনার পর থেকেই গিয়াস উদ্দিন এতে জড়িত নয় বলেও নানা কথা ছড়াতে শুরু করেছিল তার অনুগতরা। আর তখন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মী যারা গিয়াস উদ্দিনের স্বভাব জানেন তাদের অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন যে, এই ঘটনার নেপথ্যে গিয়াসেরই হাত রয়েছে।

 

অবশেষে পল্টন থানা পুলিশের তদন্তে ঘটনার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে গিয়াসপুত্র রিফাতের নাম উঠে আসে। তবে গিয়াস উদ্দিনের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে এখনও মুখ খুলতে সাহস করেন না তার অনুসারী বিএনপির ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাকর্মীরা।


তবে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার  শর্তে বলেন, আগে গিয়াস উদ্দিন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিজ এলাকায় শায়েস্তা করতেন। কিন্তু এখন এলাকা ছেড়ে এলাকার বাইরে গিয়ে আঘাত করা শুরু করেছেন। এটা দলে তার প্রতিপক্ষদের চিহ্নিত করে তুলেছে।  


সূত্রমতে, ২০০১ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে গিয়াস রাজনীতিতে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেন। তখন তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি থাকার পাশাপাশি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হন। এক দশক পর এসে সেই গিয়াস উদ্দিনকেই তার নিজ এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জে দলের মধ্যেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হয়েছে।

 

ফলে ১৫ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির আয়োজত সম্মেলন বানচাল করে দেয় গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীরা। ওই ঘটনার পর গিয়াস উদ্দিনকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি তুলেছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। আর এতেই বিগড়ে যান গিয়াস। ফিরে যান তার চির চেনা রুপে। 


ছুরিকাঘাতে আহত জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, আমার উপর হামলার ঘটনায় আমার স্ত্রী বদরুন নাহার বাদি হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলায় জনতার হাতে আটক একজন হামলাকারীকেই আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।

 

কিন্তু পুলিশের তদন্তে হামলার নেপথ্যে দলের কারও কারও নাম উঠে এসেছে। এতে আমি মর্মাহত এবং হতবাক হয়েছি। এটা আমার প্রত্যাশা ছিল না। আমি চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে হামলাকারী ও এর নেপথ্যে ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করবে। পুলিশের তদন্তে যাদের নাম উঠে আসবে আমি তাদের শাস্তি দাবি করি। 


গিয়াসের রাজনীতিতে উত্থান যেভাবে

ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি দিয়ে গিয়াস উদ্দিনের রাজনীতিতে হাতে খঁড়ি। এরপর ছাত্র ইউনিয়ন ছেড়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৩ সালে গিয়াস উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। ৭৫ পরবর্তীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পর এলাকাবাসীর চাঁদার টাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।  

 

৮০’র দশকে আওয়ামী লীগ থেকে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। পরে সদর উপজেলা (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) নির্বাচনে দলের প্রভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গিয়াস। ৯০ সালে এরশাদের পতনের পর কিছুদিন রাজনীতিতে নিস্ক্রীয় থাকার পর ৯৫ সালে আবারো যোগ দেন আওয়ামী লীগে।

 

তদবির করে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ দখল করে নেন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে অবস্থান নেয় গিয়াস উদ্দিন। পরে শামীম ওসমান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয় গিয়াস উদ্দিনের।

 

২০০১ সালের ১৪ আগস্ট গিয়াস উদ্দিন কৃষক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে এফবিসিআইসির নেতা শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর তদ্বীরে প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন নাটকীয়ভাবে ৬ সেপ্টম্বর গিয়াস উদ্দিন বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যান এবং  ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে রাতারাতি আলোচনায় ওঠে আসেন তিনি।

 

যদিও গিয়াস উদ্দিনকে বিএনপিতে যোগ দিতে সহায়তা করিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু পরে গিয়াস নিজেই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এবং ফতুল্লা- সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের একক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করেন।

 


আলোচিত কেরাবুন কাতিবুন ও ৫ খলিফা

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জে যেসব দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিল তাদের একজন ডেমরার জামান ও অপরজন সেলিম। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের কাছে তারা পরিচিত ছিল ‘কেরাবুন ও কাতিবুন’ নামে। হত্যাসহ দেড় ডজন মামলার আসামী জামান ও সেলিমকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে ঢাকা-৪ আসনের সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহম্মেদ ডেমরার সারুলিয়া থেকে বিতাড়িত করেন।

 

ডেমরা থেকে বিতাড়িত ওই দু’জনকে গিয়াস উদ্দিন তার বডিগার্ড নিয়োগ করেন। তাদের কারণে স্থানীয় বিএনপির অনেকেই থাকতো তটস্থ। এসব কারণে গিয়াসউদ্দিন বেশ বিতর্কিত ও সমালোচিত ছিলেন বিএনপির ওই সরকারের আমলেই।


গিয়াস উদ্দিনের ৫ খলিফা হিসেবে পরিচিতি পায় আনিসুজ্জামান ওরফে জামান, সেলিম রেজা ওরফে সেলিম, ফজলুল হক ওরফে ফজলু কেরানী, বিল্লাল হোসেন ও আক্তার খন্দকার ওরফে কাইল্যা আক্তার। গিয়াস উদ্দিনের বিলাসবহুল গাড়িতে বসেই বিএনপির ৫ বছর অধিকাংশ অপরাধ সংগঠিত করেছে জামান-সেলিম।

 

চাঁদাবাজি, জবর দখল, ঝুট সন্ত্রাস, বালু সন্ত্রাস, টেন্ডাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, খুন, রাহাজানিই ছিল তাদের অবৈধ আয়ের প্রধান উৎস। ৫ খলিফার মধ্যে এলজিইডি ও জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ করতো ফজলুল হক, তার সঙ্গে ছিল এমএ হালিম জুয়েল। ভূমি সন্ত্রাস ও জবর দখলের দায়িত্বে ফতুল্লা অংশে বিল্লাল হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে আলাউদ্দিন মুন্সী।

 

শিল্প প্রতিষ্ঠান আর কল কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রন এবং সব অপরাধ কাজে মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিল জামান ও সেলিম। গার্মেন্টের ঝুট (বিসিক ও ফতুল্লা এলাকা) ব্যবসার দায়িত্বে ছিল আক্তার। সে সময়ে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে চলতো গিয়াসের অপরাধ সাম্রাজ্য।

 

ওই সময় অপরাধের এসব উৎস থেকে মাসে কোটি টাকার উপরে আয় হতো। এখানেই শেষ নয়, গিয়াস উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই বগুড়ার জুয়েল ও কোয়েল, এবং ডেমরার আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জামান ও সেলিম, খুলনার মিজান, যশোরের মোজাম্মেল, ফতুল্লার কাইল্যা আকতার গংদের প্রাইভেট সেক্রেটারী বানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লার ব্যবসা বাণিজ্য, টেন্ডার, অপরাধ জগত সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করে গিয়াস উদ্দিন। 

 

যত অভিযোগ

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় গিয়াস উদ্দিন প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বদলে যাবে নারায়ণগঞ্জের চিত্র-মানুষের এমন ধারণা থাকলেও তার বিপরীত চিত্র সামনে উঠে আসে। ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে চুন প্রস্তুত কারক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গিয়াস উদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের ১৪টি চুন শিল্প থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছে।


সংবাদ সম্মেলনের ৩ মাসের মাথায় নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি ক্লিনিকের সামনে ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চুন প্রস্তুত কারক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুন্দর আলী খুন হয়। এরপর খুন হয় সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব। ২০০২ সালে খুন হয় সিদ্ধিরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন।

 

এরপর অপারেশন ক্লীন হার্টের সময় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা ও জেলা বিএনপির ওই সময়কার সাধারণ সম্পাদক ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার নিজ বাড়ির অদূরে খুন হন।

 

একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ে বিশিষ্ট ল্যান্ড ব্যবসায়ি ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী কফিল উদ্দিন খুন হয়। এসব খুনের নেপথ্যে গিয়াস উদ্দিনের দিকে আঙ্গুল উঠলেও নানাভাবে পার পেয়ে যান তিনি। ব্যবসায়ি সাব্বির আলম হত্যা মামলায় সরাসরি আসামী ছিলেন গিয়াস উদ্দিন।


দুর্নীতিবাজদের তালিকায় ৩৫ নাম্বার

ওয়ান এলেভেনের পর দেশের দুর্নীতিবাজ ও গডফাদারদের একটি তালিকা প্রকাশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই তালিকার ৩৫ নম্বরে ছিল গিয়াস উদ্দিনের নাম। ওই সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ২৮টি মামলা দায়ের হয়। দীর্ঘ পৌনে ২ বছর কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওয়ান ইলিভেনের সময় তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভুইয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সংস্কারবাদী নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দ্রæত সব মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণা করে সরকারী ভূমি লীজ ও অনুমোদন না নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়।

 

ওই সময় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোনাজের রশিদ তার দায়ের করা মামলার উল্লেখ করেন, প্রতারণা ও  ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গিয়াস উদ্দিন নিজের নামে অনুমোদন ছাড়া গিয়াস উদ্দিন ইসলামী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

ক্ষমতার অপব্যবহার, সন্ত্রাসী বাহিনী লালন ও অন্যায়ভাবে সরকারী জমি দখল করে ৫ কোটি টাকা অর্জন এবং আত্মসাৎ করার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে বিআইডবিøউটিএ কর্তৃপক্ষ। সরকারী ভূমি লীজ নিয়ে প্রায় ৮২ লাখ টাকার মাটি সরিয়ে সেখানে মাছ চাষ এবং ভূমি জবর দখল করে রাখার অপরাধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

মামলার বাদী নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোঃ সানাউল হক। আওয়ামীলীগে থাকাকালীন গিয়াস উদ্দিন শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে তার পাথর-বালুর ব্যবসা প্রসারিত করে। বিএনপিতে যোগ দিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে ব্যাপকভাবে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে। এ নিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে ‘নদী খেকো’ আখ্যা দিয়ে প্রভাবশালী একটি জাতীয় দৈনিক অসংখ্য রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

 

এসব বিষয়ে জানতে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ব্যবহৃত দু’টি মুঠোফোনে (০১৯..........৯৮ এবং ০১৯...........৪০) একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। সবশেষ বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৪টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আরও কয়েকবার ফোন দেয়া হয়। কিন্তু ফোন সচল থাকলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।