গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদের বক্তব্যের জবাবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেছেন, কিছু বাক্য এসেছে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, তারপর জন্মদিন, আমি জানি না; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারকে এরকম কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দলকে দিতে হয় বলে জানা নেই। যদি আসলে এরকম কোনো কিছু থাকে, তাহলে ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তির (মাসুদুজ্জামান) কাছে আমি জানতে চাই। কারা চাচ্ছে, আপনি নাম মেনশন করে বলবেন। আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেটার যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
মাসুদুজ্জামানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম আজাদ আরও বলেন, ‘আপনি যে বাক্যটা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনি সেটা নিজেকে দিয়ে শুরু করেন। তারপর আমি সহ মালিকপক্ষ যারা আছেন, সবাইকে দিয়ে শুরু করার চেষ্টা করব। আপনি একটু উদাহরণ হোন। আমরা আপনার পেছনে পেছনে হাঁটব।’
শ্রমিকদের আন্দোলন ও মালিকপক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে আবেগপ্রবণ না হয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আজাদ বলেন, নিজের আবেগকে কাজে লাগানোর জন্য কিংবা কোনো ধরনের উসকানি দেওয়ার জন্য বক্তব্য না দিয়ে দেশের, শ্রমিকদের, মালিকদের এবং নারায়ণগঞ্জের জন্য যা ভালো ও যৌক্তিক, সেটাই করা উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইমোশনালি অনেক কথা বলি। যেকোনো কথা বলার আগে পরিবেশ-পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বুঝে-শুনে আলোচনা করতে হবে।’
মাসুদুজ্জামানকে উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলামআজাদ বলেন, কতিপয় গার্মেন্টস মালিক বলেছেন, ৩০, ৪০ কিংবা ৬০ হাজার টাকা কোনো ইস্যু নয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নাও হতে পারে। কোনো মালিক ভালো বায়ারের কাজ করলে এবং কাজের রেট বেশি হলে তাকে এক লাখ টাকা বেতন দিতেও সমস্যা হবে না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের পয়সা না দিলে আমরা শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা না, আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে পারতাম। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন। শ্রমিকদের কত টাকা বেতন দিতে হয়, আমরা দেব। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা এই টাকা তো আমার শ্রমিকদের দিতে পারত।
পরবর্তীতে মাসুদুজ্জামানের এই বক্তব্য ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়। এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখান অন্যান্য গার্মেন্টস মালিক ও ব্যবসায়ী এবং বিএনপি নেতারা।


































