নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের ললাটি এলাকায় চোর সন্দেহে ফারুক (৪০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ১০ দিন পর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক সেরাজ উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা ওহেদা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে এ মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর বিকেলে স্থানীয় ললাটি এলাকার আমিনুল ভেন্ডার, তার ভাগিনা অমিত হাসানসহ কয়েকজন ফারুককে বাড়ি থেকে ডেকে ললাটি জনতা বাজারে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে আমিনুল ভেন্ডারের বাড়ির বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে চুরির অপবাদ দিয়ে বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে ফারুক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ফারুকের মা বাদী হয়ে আমিনুল ভেন্ডার, অমিত হাসানসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁ থানায় দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আহত ফারুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাতে তার মরদেহ ললাটির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ছেলেকে হত্যার বিচার দাবি করে নিহতের মা ওহেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাজারের মধ্যে বহু মানুষের সামনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, ‘এ ঘটনায় ৩২৬ ধারায় দায়ের করা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’


































