নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১৭ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যু

মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে জিদনি (১৪) নামে আরও এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। বুধবার (৩০) ভোরে চিকিৎসাধী অবস্থায় সে মারা যায়। জিদনি ৮২ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্ন নিয়ে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিল। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আতিয়া নামে ১১ বছরের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। সে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিল। জিদনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার। তিনি জানান, তার শরীরের ৮২ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্ন ছিল। বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী লামিয়া গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরের ৫৫ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্ন হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। লামিয়া ৫৫ শতাংশ ইলেকট্রিক ফ্ল্যাশ বার্ন নিয়ে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, তুলনামূলক কম দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আছিয়া ও সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাদের আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ছাদে খেলছিল কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আখও ছিল। ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। অসাবধানতাবশত আখ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে বিকট শব্দে ঝলকানি ও আগুনের সৃষ্টি হয়। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হন। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

১১:২৭ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার

আনন্দের যাত্রায় মেঘনায় ডুবে গেল একটি পরিবার

আনন্দের যাত্রায় মেঘনায় ডুবে গেল একটি পরিবার

বিয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তাদের। আত্মীয়ের বিয়ে, তাই কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে ট্রলারে উঠেছিলেন একই পরিবারের একাধিক সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী। সেইসাথে ছিল বিয়ের আয়োজনের জন্য দুটি গরু ও একটি ছাগল। গন্তব্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকা। সেখানে আত্মীয় সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়ের আয়োজন। এ উপলক্ষে সাজানো হয়েছিল বিয়ে বাড়ি, আসতে শুরু করেছিলেন আত্মীয়রা। চারদিকে ছিল খুশির আমেজ কিন্তু সেই বিয়ে বাড়ির আনন্দে পৌঁছানোর আগেই মেঘনা নদীতে থেমে যায় তাদের যাত্রা। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা থেকে যাত্রা করা ট্রলারটি বিকেলে মেঘনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে ঝড় ও তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারের ভেতর পানি ঢুকতে শুরু করে। মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায় ট্রলারটি। সেইসাথে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন যাত্রীরা। তবে দুর্ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা ‘আমান সিমেন্ট’ কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ততক্ষণে হেলাল উদ্দিন ও তার তিন সন্তান পানিতে নিখোঁজ। তবে রাশিদা বেগম নামের আরেক নারীকে উদ্ধার করা হলেও তিনি আর বেঁচে নেই। এরপর মেঘনার পাড়ে শুরু হয় স্বজনদের অপেক্ষা। ভীড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। কারও চোখ নদীর দিকে, কেউ ছুটছেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। ডুবুরি দল আর নৌ-পুলিশ নেমেছে উদ্ধারে। স্বজনদের কাছে তখন প্রতিটি মুহূর্তই যেন দীর্ঘ হয়ে উঠছিল। তাদের চাওয়া হেলাল উদ্দিন ও তাদের সন্তানের মরদেহের সন্ধান। এই অপেক্ষার মধ্যেই পেরিয়ে যায় দিন থেকে রাত। তবে শনিবার সকালে সেই অপেক্ষার এক করুণ পরিণতি আসে। বৈদ্যেরবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান সজীব হোসেন (২৪), সামিয়া আক্তার (১৭) ও সামিন হোসেনের (৫) মরদেহ। তিন সন্তানের মরদেহ পাওয়া গেলেও বাবা হেলাল উদ্দিন তখনো নিখোঁজ। একদিকে তিন সন্তানের মরদেহ, অন্যদিকে বাবার কোনো খোঁজ নেই স্বজনদের অপেক্ষা তখন আরও ভারী হয়ে ওঠে। তারপরও নদীতে তল্লাশি চালাতে থাকে উদ্ধারকারী দল। মেঘনার পাড়ে হয়তো তখনও কেউ আশায় তাকিয়ে ছিলেন, যদি হেলালের মরদেহ কোথাও পাওয়া যায়। সোমবার দুপুরে সেই অপেক্ষারও শেষ হয়। রতনপুর ব্রিজের নিচ থেকে নৌ-পুলিশ উদ্ধার করে হেলাল উদ্দিনের (৫৫) মরদেহ। চার দিন পর পাওয়া গেল পরিবারের শেষ নিখোঁজ সদস্যকে। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের মতো বাবাকেও ফিরিয়ে দিল মেঘনা, তবে জীবিত নয়। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে হোমনা থেকে এসেছিলেন তাঁরা। যে বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল হাসি-আনন্দে, সেই বিয়ের সঙ্গে এখন জড়িয়ে গেল একটি পরিবারের পাঁচটি মৃত্যুর স্মৃতি। শেষ পর্যন্ত মেঘনা তাদের সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই ফেরা ছিল এমন এক ফেরা, যার জন্য কোনো স্বজন অপেক্ষা করেন না। বিয়েতে যাওয়ার পথে যে পরিবারটি ঘর থেকে বের হয়েছিল, চার দিন পর সেই পরিবারের বাবা ও তিন সন্তান ফিরলেন মরদেহ হয়ে। আনন্দের জন্য শুরু হওয়া একটি নদীযাত্রা শেষ হলো এক পরিবারের শোকের গল্প হয়ে।

০৬:৫২ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

সোনারগাঁয়ের মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ বাবা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ ৪ দিন পর উদ্ধার

সোনারগাঁয়ের মেঘনায় ট্রলারডুবি: নিখোঁজ বাবা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ ৪ দিন পর উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র ঢেউ ও ঝড়ের মুখে পড়ে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় শেষ নিখোঁজ ব্যক্তি হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার চার দিন পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রতনপুর ব্রিজের নিচ থেকে নৌ-পুলিশ তাঁর লাশটি উদ্ধার করে। এর মাধ্যমে এ ঘটনায় একই পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্যের লাশ উদ্ধার হলো। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে এক পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন ট্রলারযোগে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। ট্রলারে দুটি গরু ও একটি ছাগলও বহন করা হচ্ছিল। মেঘনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ঝড় ও প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারের ভেতরে পানি ঢুকে যায় এবং মুহূর্তেই তা ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময়ে কাছে থাকা ‘আমান সিমেন্ট’ কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হলেও নিখোঁজ থাকেন তার স্বামী হেলাল উদ্দিন ও তাঁর তিন সন্তান। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার অঞ্চল থেকে ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান—সজীব হোসেন (২৪), সামিয়া আক্তার (১৭) ও সামিন হোসেন (৫)-এর লাশ উদ্ধার করে। আজ সোমবার বাবা হেলাল উদ্দিনের মরদেহটি উদ্ধারের মধ্য দিয়ে টানা চার দিনের উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের খোঁজের অবসান ঘটল।নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র ঢেউ ও ঝড়ের মুখে পড়ে ট্রলারডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় শেষ নিখোঁজ ব্যক্তি হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার চার দিন পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রতনপুর ব্রিজের নিচ থেকে নৌ-পুলিশ তাঁর লাশটি উদ্ধার করে। এর মাধ্যমে এ ঘটনায় একই পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্যের লাশ উদ্ধার হলো। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে এক পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন ট্রলারযোগে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। ট্রলারে দুটি গরু ও একটি ছাগলও বহন করা হচ্ছিল। মেঘনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ ঝড় ও প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারের ভেতরে পানি ঢুকে যায় এবং মুহূর্তেই তা ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময়ে কাছে থাকা ‘আমান সিমেন্ট’ কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে এসে আটজন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাশিদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হলেও নিখোঁজ থাকেন তার স্বামী হেলাল উদ্দিন ও তাঁর তিন সন্তান। পরবর্তী সময়ে গত শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার অঞ্চল থেকে ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান—সজীব হোসেন (২৪), সামিয়া আক্তার (১৭) ও সামিন হোসেন (৫)-এর লাশ উদ্ধার করে। আজ সোমবার বাবা হেলাল উদ্দিনের মরদেহটি উদ্ধারের মধ্য দিয়ে টানা চার দিনের উদ্ধার অভিযান ও নিখোঁজদের খোঁজের অবসান ঘটল।

০২:৫৯ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার