নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডের কালীবাড়ী মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত কদমরসুল সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি ও উচ্ছেদ সীমানা পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপপরিচালক লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় কালীবাড়ী মন্দিরের বিপরীত পাশের উচ্ছেদ সীমানা এবং প্রস্তাবিত সেতুর নির্মাণকাজের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের দুই অংশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ রয়েছে। বন্দর থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নারায়ণগঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে অতীতে বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বর্তমানে জাইকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের যৌথ অর্থায়নে সেতুটির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও ভবিষ্যৎ নগরায়ণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এর কারণে যেন ব্যবসায়ীরা কর্মসংস্থান হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত কদমরসুল সেতু দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেতু নির্মাণকে কেন্দ্র করে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কদমরসুল সেতু নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রকল্পের কারণে যারা ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়ছেন, তাদের বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ কার্যক্রমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেতু নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে পরবর্তী সময়ে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ধর্মীয় স্থাপনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, কোনো মসজিদ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়নি। কালীবাড়ী মন্দিরের মূল কাঠামোও অক্ষত রাখার চেষ্টা করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি হলে বিকল্প উপায়ে তা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে। সড়ক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন অবৈধ স্থাপনা বা মাজারের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সেতু নির্মাণের স্বার্থে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দখল করে বসা হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা দ্রুত করা হবে।
এদিকে উচ্ছেদের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কালীবাড়ী মন্দিরের বিপরীত পাশের বিভিন্ন দোকানের মালিকরা নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ কলেজের সামনের দোকানপাটও সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দুই দিনের সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তৃতীয় দিনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন, এনডিসি তারিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ, এলজিইডির উপপরিচালক লুৎফর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


































