নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজনীতি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন শাহ আলম !

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২৩:৫২, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাজনীতি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন শাহ আলম !

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে পরাজিত হরিণ প্রতীকধারী স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে পরাজয়ের পরপরই তিনি নিজ বাসভবনে তার অনুসারীদের ডেকে নেন এবং তাদের জানান—তিনি আর সক্রিয় রাজনীতি করবেন না এবং ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

তথ্যমতে, নির্বাচনে পরাজয়ের ঘটনা শাহ আলমের রাজনৈতিক জীবনে নতুন নয়। এর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত সংসদ সদস্য সারা বেগম কবরী-এর কাছে পরাজিত হন। ওই পরাজয়ের পর তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী-কে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

এরপর তিনি কেবল নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে থেকে স্বেচ্ছায় বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন। নির্দিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হননি। দলের নেতাকর্মীরা একাধিকবার অনুরোধ জানালেও তিনি রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

তবে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণার পর হঠাৎ করেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন এবং তার অনুসারীদের নিয়ে প্রচারণায় নামেন। কিন্তু ফতুল্লা থানা বিএনপি ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো তার বিপরীতে অবস্থান নেয়।

নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর শাহ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন।

সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনের রাতেই এবং পরদিন শুক্রবার তিনি তার অনুসারীদের আবারও ডেকে নিয়ে স্পষ্টভাবে জানান—তিনি আর কখনো রাজনীতি করবেন না এবং ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না।