সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপিডিসির কমার্শিয়াল সুপারভাইজার সুমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গ্যারেজ, বাসা বাড়ী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবিকৃত ঘুষ না দিলে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির কমার্শিয়াল সুপারভাইজার সুমন দীর্ঘ ৮ বছর একই দপ্তরে রয়েছেন। কিভাবে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসিতে একজন মানুষ ৮ বছর রয়েছেন তা নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় চাঞ্চল্য। গড়ে তুলেছেন একটি দালাল ও চোর সিন্ডিকেট।
সুমন যোগদান করার পর থেকেই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চোরা সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা। হীরাঝিল, সিআই খোলা, পাইনাদী সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় একটি বিদ্যুৎ চোর সিন্ডিকেট তৈরি করেছে সুপারভাইজার সুমন। সুমনের এমন ঘুষ কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বলেন, সুপারভাইজার সুমন ও তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য আমিনুল ও মমিনুলকে ঘুষ না দিলে ভূতুরে বিল করে হয়রানি করার হুমকি প্রদান করে। সুমনের এ সিন্ডিকেটে রয়েছেন আরো কয়েকজন। তারা হলেন বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসি থেকে চাকরিচ্যুত আমিনুল ও মমিনুলসহ আরও কয়েকজন। চাকরিচ্যুত এ ২ মিটার রিডারকে দিয়ে মিটারের রিডিং আনা ও বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোসহ ব্যাপক অনিয়ম করারও অভিযোগ ওঠে।
তাই হয়রানি এড়াতে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে সুমন বাহিনীকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে বাধ্য হয়। খোজ-খবর নিয়ে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির কমার্শিয়াল সুপারভাইজার সুমন নামে বে-নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ বাসী বলেন, সুপারভাইজার সুমন সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসিতে আসার পর থেকেই বিভিন্ন ধরেনর গ্যারেজ ও বাসা বাড়িতে মিটার বিল কমিয়ে দিবেন বলে প্রতিষ্ঠান গুলোর মালিকদের কাছ থেকে প্রতিমাসে তার সেন্ডিকেটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঘুষখোর সুমন, চাকরিচ্যুত আমিনুল ও মোমিনুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির অভিযুক্ত কমার্শিয়াল সুপারভাইজার সুমনের মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপর দিকে চাকরিচ্যুত মিটার রিডার মমিনুল মুঠোফোনে বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে আছি উক্ত অভিযোগগুলো সত্য নয় বলে জানান এবং অভিযুক্ত আরেক মিটার রিডার আমিনুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা করা সম্ভব হয়নি।
উক্ত বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিপিডিসির (এসি) প্রকৌশলী মোঃ শের আলী বলেন, বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে চাকরিচ্যুত মিটার রিডার কেউ ডিপিডিসিতে কাজ করার কোন সুযোগ নেই। মোমিনুল ও আমিনুল যদি ডিপিডিসিতে কাজ করে থাকে তাহলে তাদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































