নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরের উত্তরাঞ্চলে সাবেক ছাত্রদল নেতার শেল্টারে শতাধিক স্পটে মাদক ব্যবসা জমজমাট

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৫৯, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বন্দরের উত্তরাঞ্চলে সাবেক ছাত্রদল নেতার  শেল্টারে শতাধিক স্পটে মাদক ব্যবসা জমজমাট

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার উত্তরাঞ্চলে মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। এতে মাদকের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধও বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল।

 

বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগে বন্দর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক বন্দর থানা ছাত্রদল সভাপতি আল আমিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

স্থানীয়দের দাবি, মদনপুর মাস্টারবাড়ী, বড় সাহেববাড়ী, পেয়ারা বাগান, নাজিমউদ্দীন কলেজ এলাকা, আন্দিরপাড়, হেদায়েতপাড়া, উত্তর চাঁনপুর, দক্ষিণ চাঁনপুর, দেওয়ানবাগ ও কলাবড়ীসহ উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি স্থানে নিয়মিত মাদক বেচাকেনা হচ্ছে। এসব স্থানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য কেনাবেচা চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

তাদের অভিযোগ, মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় এলাকায় চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাও বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বিভিন্ন সূত্রে কয়েকজনের নামও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে। তারা হলেন—মদনপুর মাস্টারবাড়ী এলাকার লিমন, শামীম, রাসেল, হেদায়েতপাড়া এলাকার রাজিব, দক্ষিণ হেদায়েতপাড়া এলাকার দুলাল এবং মদনপুর মাস্টারবাড়ী এলাকার নাদিম হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন মাদক স্পটে মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

 

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বন্দরে মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ায় যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলে এর প্রভাব পুরো সমাজে পড়ে। দ্রুত কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।”

 

তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করার দাবি জানান তিনি।

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না; মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত পৃষ্ঠপোষক ও অর্থের উৎসও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদক স্পটগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

মাদক ব্যবসা ও এর পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে। স্থানীয়রা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারে নারায়ণগঞ্জের নবাগত পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন