নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দিনব্যাপী তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার পর থেকে যানজট শুরু হয় এবং বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত যানজট আরো তীব্র হয়। পরে বিকাল ৩ টা থেকে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় সরেজমিনে দেখা যায় তিন মহাসড়কেই ট্রাক, বাস, পিকআপ ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। কোথাও কোথাও যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকে।
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে শনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং ঢাকামুখী লেনে মদনপুর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
কাঁচপুর এলাকায় অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে, সেখানে আজ লেগেছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। কর্মস্থল ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ পড়েন চরম বিপাকে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।
জানাগেছে, এশিয়ান হাইওয়েতে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক, গাড়ি নষ্ট হওয়া এবং যানবাহনের ধীরগতিসহ একাধিক কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে বন্দরের মদনপুর পর্যন্ত চট্টগ্রামমুখী লেনে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসময় পায়ে হেটে যাত্রী সাধারণকে পায়ে হেটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
নোয়াখালীর সোনাপুরগামী একুশে পরিবহনের যাত্রী আয়েশা আক্তার মনি ও আব্দুল মান্নান বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসে উঠে ২ ঘন্টা সময় লেগেছে ৩ কিলোমিটার অতিক্রম করতে।
স্টার লাইন পরিবহনের যাত্রী আবুল হোসেন বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে ৩ মিনিটের রাস্তা কাঁচপুর যেতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা। মহাসড়কে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং পরিবহন চালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানজটে পড়ে।
হানিফ পরিবহনের বাস চালক মনির বলেন, সড়কে তুলনামূলক গাড়ির বেশি চাপ রয়েছে এবং মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়েতে যানজট থাকায় এ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
ট্রেন মিস করে বাসে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন নাসরিন সুলতানা। তিনি বলেন, ট্রেনের টিকিট না পেয়ে বাসে উঠেছিলাম। কিন্তু এই যানজটে পড়ে মনে হচ্ছে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হবে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইনচার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা বলেন, নির্বাচনের ছুটি শেষে শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রাক চলাচল হঠাৎ বেড়ে গেছে।
এছাড়া মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়ের কয়েকটি অংশ অতিমাত্রায় ভাঙা থাকায় ট্রাকগুলো ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
তবে সড়কের ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কার না করা হলে এমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।


































