নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

১৭ জুলাই ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:০১, ১৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। গর্ত এড়াতে চালকদের হঠাৎ লেন পরিবর্তনের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর হয়ে মেঘনা সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে। সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর সেতুর ঢাল, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুর্দী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না, যা দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনারও এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে সামান্য একটি গর্তও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, গর্ত এড়াতে অনেক চালক হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন। এতে পেছনের যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়লে বিকট শব্দে গাড়ি দুলে উঠছে, আর মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়ছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজটও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। আগে যেসব স্থানে ছোট গর্ত ছিল, সেগুলো এখন বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকায় গর্তগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

পরিবহনচালক কবির মিয়া বলেন, “মহাসড়কে এখন গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গর্ত বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই সড়কে শুধু দুর্ঘটনার ভয় নয়, গভীর রাতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও থাকে। গর্তের কারণে গাড়ির গতি কমে গেলে অপরাধীদের তৎপরতার সুযোগ তৈরি হয়।”

কবির মিয়ার অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার সেই কার্পেটিং উঠে যায়। স্থায়ীভাবে উন্নতমানের নির্মাণকাজ না করলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।

দাউদকান্দি থেকে চিটাগাং রোডগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, “দিনের বেলায় কিছুটা সতর্ক হয়ে চলা যায়। কিন্তু রাতে মহাসড়কে চলাচল সত্যিই ভয়ের। গাড়ি হঠাৎ গর্তে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ যাত্রায় এটি বড় ভোগান্তি।”

প্রাইভেটকার চালক বেলায়েত হোসেন বলেন, “বৃষ্টির কারণে এখন গর্তগুলো অনেক গভীর হয়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির সাসপেনশন ও চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন।”

ট্রাকচালকদের ভাষ্য, ভারী যানবাহন নিয়ে গর্তের ওপর দিয়ে চলাচল করলে যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে সময়ও বেশি লাগছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে থাকে। এতে পিচ নরম হয়ে উঠে গিয়ে দ্রুত গর্ত তৈরি হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয় না; সাময়িকভাবে খোয়া ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাট করার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা নষ্ট হয়ে যায়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। পানি কার্পেটিংয়ের ফাঁক দিয়ে নিচের স্তরে প্রবেশ করলে রাস্তার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। এরপর ভারী যানবাহনের চাপের কারণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে দ্রুত খানাখন্দ তৈরি হয়। যেসব স্থানে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে, সেখানে এ ধরনের ক্ষতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “বৃষ্টির সময় স্থায়ীভাবে কার্পেটিংয়ের কাজ করা কঠিন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্যাচিং করা হচ্ছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।”