নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০৪ মার্চ ২০২৪

নারায়ণগঞ্জ বাজারের হালচাল

সবজি-মুরগিতে স্বস্তি, দাম চড়া দেশি মাছের: বেড়েছে চিনি-ডাল-আটার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৭:৫৮, ২৪ নভেম্বর ২০২৩

সবজি-মুরগিতে  স্বস্তি, দাম চড়া দেশি মাছের: বেড়েছে চিনি-ডাল-আটার

হরতাল- অবরোধের প্রভাব নেই নারায়ণগঞ্জ শহরের সবজির বাজার গুলোতে।কয়েক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী মুরগির বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে দাম কমেছে ২০ টাকা পর্যন্ত। স্বস্তি ফিরেছে সবজির বাজারে; তবে দাম চড়া দেশি মাছের। আর সপ্তাহ ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১০ টাকা কমে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চিনির দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া চড়া চাল, ডাল, আটা, ময়দা, মসলাসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম।

শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান কাঁচাবাজার দিগুবাবুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বাজারে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমে বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকায়, ধুন্দল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, লেবুর হালি ২০ থেকে ৪০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ১২০ টাকা, কলার হালি ২০ টাকা, জালি কুমড়া ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলুর কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, নতুন আলু ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মুলা ৩০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা ও গাজর ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক ৩০ টাকা কেজি, লাউ শাক ৩০ টাকা আঁটি, মুলা শাক ৩০ টাকা কেজি, পালং শাক ৪০ টাকা কেজি, কলমি শাক ১০টাকা আঁটি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।


বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি এবার অতিবৃষ্টি না হওয়ায় ফসল নষ্ট হয়নি। এতে দাম কিছুটা কম।

আর ক্রেতারা জানান, সবজির দাম কমায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে দাম আরও কমলে ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে আসবে।


রাজু আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, এখনও সবজির যা দাম, সেটিও আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য অনেক বেশি। দাম আরও কমলে ভালো।’

এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। বিক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লারের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

বাজারগুলোতে লাল ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।  

বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়।

বিক্রেতারা জানান,  ব্রয়লারের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কমেছে। মূলত বাজারে মুরগির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির দিকে।

ঊর্ধ্বমুখী দেশি মাছের বাজার। বাজারে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছের কেজি ৯০০ টাকা, শিং মাছ (আকারভেদে) ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুইয়ের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, মলা ৬০০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৬০০ টাকা, পাঁচমিশালি ২২০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার ২০০ টাকা, বাইম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, দেশি কই এক হাজার টাকা, মেনি মাছ ৭০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ থেকে  এক হাজার টাকা এবং আইড় মাছ ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলাবাজারে খোলা সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। আর প্যাকেজাত সাদা চিনি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। এসব চিনির দাম কয়েক সপ্তাহ আগে ১৪০ টাকার মধ্যে ছিল।

মুদিদোকানে চলতি মাসের শুরুতে মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছিল। মাঝে কয়েক দিন কমে আবার বেড়েছে এখন। বর্তমানে মোটা দানার ডালের কেজি ১১০ থেকে ১২০ এবং ছোট দানার ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা আর খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫ টাকা বেশি।

সম্পর্কিত বিষয়: