নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

০৭ অক্টোবর ২০২৬

অগ্রণী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ৫, শোন অ্যারেস্ট শরীফুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৪৬, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অগ্রণী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ৫, শোন অ্যারেস্ট শরীফুজ্জামান

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ব্যাংকের সাবেক দুই ম্যানেজারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অফিসার (ক্যাশ) মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক ম্যানেজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল হাই।

এর আগে একই ঘটনায় গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের মূল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শ্রীনগর শাখায় অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ তাকে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

ব্যাংক সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের সঞ্চয় ও এফডিআরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠে, গ্রাহকদের বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সংগ্রহ করে ভুয়া কাগজপত্র ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় শত শত গ্রাহক ভিড় করেন এবং নিজেদের আমানতের হিসাব যাচাই ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শাখাটির অন্তত ১৪টি হিসাব থেকে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি অনুসন্ধানে নেয়। অনুসন্ধান করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো: শরিফুল ইসলাম। মূল অভিযোগ সংশ্লিষ্ট শরীফুজ্জামান সোহাগকে দুদকের অনুসন্ধানে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বুধবার আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এতে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়ল।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনায় কার কার সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।