নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় তিন দিন পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়ার ছোট ভাই বিল্লাল হোসেন ও তার ছেলেসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে আহত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামালের স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চলাকালে বিল্লাল হোসেন তার অসুস্থ স্ত্রী ফিরোজা বেগমকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে বাইরে থেকে একটি ইনজেকশন আনতে বলা হয়। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই রোগীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগে বলা হয়, ইনজেকশন প্রয়োগে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় বিল্লাল হোসেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি মোবাইল ফোনে লোকজন ডেকে আনেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামালকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে আনসার সদস্যদেরও মারধর করা হয় এবং আটক একজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
গুরুতর আহত আব্দুল্লাহ আল কামালকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় বিল্লাল হোসেন, তার ছেলে মনির, ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়ার ছেলে সুমন, সোহান, পারভেজ ও সিফাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তারা কোনো প্রামাণ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ হোসেন ভুঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেই তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি। তার দাবি, অসুস্থ রোগীকে যথাসময়ে চিকিৎসা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি হাসপাতালের সেবার মান নিয়েও অভিযোগ তোলেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, বাদীর দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তিনি রাজনৈতিক চাপের কারণে কাউকে মামলার বাইরে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আরও পড়ুন:আড়াইহাজারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে চিকিৎসককে পেটালেন বিএনপি নেতা


































