নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০৬ জুলাই ২০২৬

বন্দরে এক মাসে ৭ হত্যা, ৪ মরদেহ উদ্ধার ও ৭ ধর্ষণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:৫১, ৬ জুলাই ২০২৬

বন্দরে এক মাসে ৭ হত্যা, ৪ মরদেহ উদ্ধার ও ৭ ধর্ষণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে উপজেলায় ৭টি হত্যাকাণ্ড, ৪টি মরদেহ উদ্ধার এবং ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন বন্দরের নবীগঞ্জ কদমরসুল ঘাটসংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

৭ জুন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন গার্মেন্টসকর্মী মো. জুবায়ের (১৮)। চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জুবায়েরের মরদেহ নিয়ে বন্দর থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেন। পরে এ ঘটনায় দায়িত্বরত এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

 

৯ জুন মুছাপুর ইউনিয়নের বারপাড়া বাগানবাড়ি এলাকা থেকে সজিব (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে।

 

১৭ জুন পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সাথী (৩৮)কে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্বামী জনির বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

২০ জুন বন্দরের রূপালী এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সাত বছর বয়সী শিশু হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসান রূপালী আবাসিক এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে।

 

২৬ জুন মুছাপুর এলাকায় ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেনকে মারধরের ঘটনায় তার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও তার ভাগিনা মো. আলীর বিরুদ্ধে।

 

সর্বশেষ ৪ জুলাই বন্দরের ঢাকেশ্বরী এলাকার একটি ডোবা থেকে অটোরিকশাচালক মাসুম রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, ছিনতাই ও রাতের চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা শঙ্কিত।

 

তবে পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে তারা সক্রিয় রয়েছে।

 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) দীপংকর ঘোষ বলেন, "অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনার মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতকদের আইনের আওতায় আনতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ অভিযান ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।"

সম্পর্কিত বিষয়: