নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

২২ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায় চালককে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:৫২, ২২ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজিতে বাধা দেওয়ায়  চালককে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজি ও পরিবহনস্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তারে বাধা দেওয়ায় মঞ্জিল পরিবহনের জ্যেষ্ঠ চালক মো. রবিন (৩৫)-কে ফোনে ডেকে নিয়ে রাতভর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত রবিন ও তাঁর পরিবারের দাবি, হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

 

গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রবিনকে মুঠোফোনে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী রবিনের অভিযোগ, মঞ্জিল পরিবহনের চালকদের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ হওয়ায় তাকে সরিয়ে দিয়ে বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনার প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।

 

রবিন অভিযোগ করে বলেন, সাবেক কাউন্সিলর ইকবাল মিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আজাহার ওরফে ‘কুত্তা আজাহার’-এর নির্দেশে শিমরাইলের এক মেম্বারের ছেলে ইয়াবা রাসেল, হিরোঞ্চি বিল্লালসহ কয়েকজন তাকে রাতভর আটকে রেখে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

 

পরে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে গেলে হামলাকারীরা সেখানেও উপস্থিত হয়ে তার চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পুলিশ কেসের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন রবিন। একই সঙ্গে ঘটনা নিয়ে মামলা করলে কিংবা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

রবিন আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে মঞ্জিল বাসস্ট্যান্ড ও টাইগার মিল এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আধিপত্য রয়েছে। বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় তারা এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

ঘটনার পর রবিনের স্ত্রী সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে রাতভর নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। সকালে ঘটনাস্থলে গেলে তার গলার চেইন ও মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলার পর থেকে তারা প্রাণনাশের আতঙ্কে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে আইনি পদক্ষেপ নিতেও ভয় পাচ্ছেন।

 

তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সবাই তো মিছিল-মিটিংয়ে যায়। সবাই কি আমার লোক? তবে এরা সবাই খারাপ, ওই ড্রাইভারও খারাপ। আমি খবর নিয়েছি।”

 

এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কোনো মামলা বা অভিযোগ পাইনি। তবে কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সম্পর্কিত বিষয়: