নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর দক্ষিণ শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানার আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ বুলবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা দ্বীন ইসলাম ও সেক্রেটারি মুহাম্মাদ সুলতান মাহমুদ এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি এইচ এম রবিউল ইসলাম এ দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ ও সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমাদ সাকীও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মুহাম্মাদ বুলবুলের ওপর সন্ত্রাসী সিফাত বাহিনী হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনাকে বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন, একজন নাগরিকের ন্যায়সংগত প্রতিবাদের অধিকারকে সহিংসতার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বন্দরে এর আগেও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নুর হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বুলবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
তারা বলেন, অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই—অপরাধীর পরিচয় একটাই, সে অপরাধী। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনগণের ক্ষোভ আরও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।
এদিকে, বুলবুল হত্যার বিচার দাবিতে আগামীকাল (২২ আগস্ট) বাদ জুমা নারায়ণগঞ্জ বন্দর শাহী মসজিদ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে সর্বস্তরের জনগণকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। বুলবুল হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”


































