নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

১৮ জুন ২০২৬

নাসিকের ১৮ নং ওয়াডে পূর্ব মসিনাবন্দের সড়কটির বেহাল অবস্থা, জনদুর্ভোগ

মো: মামুন হোসেন:

প্রকাশিত:১৯:১৩, ১০ এপ্রিল ২০২৬

নাসিকের ১৮ নং ওয়াডে পূর্ব মসিনাবন্দের সড়কটির বেহাল অবস্থা, জনদুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়াডের গোগনগর পূর্ব মসিনাবন্দের গাউছুল আজম মসজিদ থেকে সুকুমপট্টি মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন জন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন শত শত পথচারী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই পথ ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সড়কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর ভাঙাচোরা অবস্থা এবং দুর্বল অবকাঠামো। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ইট উঠে গিয়ে কাঁদামাটির স্তর তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তাটি পানিতে ডুবে যায় এবং পরে তা কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে ওঠে। তখন পথচারীদের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপই হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। 

শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে, অনেক সময় তারা পিছলে পড়ে আহতও হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থা এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাস্তাটির পাশে থাকা ড্রেনগুলো অপরিষ্কার, ভাঙা এবং অনেক জায়গায় বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না এবং দীর্ঘসময় ধরে রাস্তায় জমে থাকে। এতে করে রাস্তাটির স্থায়িত্ব নষ্ট হচ্ছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা দুঃখজনক।

 

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অধিকাংশ যানবাহন এই সড়কটিকে বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করছে। ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে রাস্তাটির ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেসব সড়ক মূলত হালকা যান চলাচলের জন্য উপযোগী, সেখানে ভারী যান চলাচল করলে তার অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করেই প্রতিনিয়ত রাস্তাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখানে প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোটরসাইকেল চালকরা গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে ভারসাম্য হারাচ্ছেন, রিকশা-অটো উল্টে যাচ্ছে, পথচারীরা হোঁচট খাচ্ছেন—এসব ঘটনা এখন এলাকাবাসীর জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগ। যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানী ঘটতে পারে। 

 

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হোক। শুধু উপরিভাগে সামান্য মেরামত নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সড়কটিকে দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব।

 

এলাকাবাসীর দাবী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান—অবিলম্বে এই সড়কের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। 

সচেতন মহল মনে করছেন, অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করতে। এখনই যদি যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে এই সড়কের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে এবং জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই সময় থাকতে উদ্যোগ নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এলাকাবাসী আশাবাদী—তাদের এই ন্যায্য দাবি অচিরেই বাস্তবায়িত হবে এবং তারা একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক ফিরে পাবে।