সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, বিচার ব্যবস্থা শেখ হাসিনার শাসনামলের চাইতে উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয়নি। সাড়ে ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখনো ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র তৈরি হয় নি।
তিনি বলেন, আমরা জানতে চাই এখন এই বিলম্বেরর কারণ কি? এখনো কী ঘাতকদের রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে কি না? শেখ হাসিনা সরকারের কালো ছায়া এই সরকারের উপর আছে কিনা আমরা জানি না।
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬২ মাস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ১৫ বছরে দেশে যে দুর্বৃত্ত রক্ষার রানীতি তৈরি করে গেছেন, পরবর্তীতে যেন তারই ধারাবাহিকতা রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমরা এ রাজনীতির বদল চাই। মানুষের পক্ষের রাজনীতি চাই। হাসিনার শাসনামলে খুন, হত্যা, চাদাবাজি, দখল-রাহাজানির মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছিল। ত্বকীর ঘাতকরা চিহ্নিত হলেও, তারা বীরদর্পে সারা শহর দাপিয়ে বেরিয়েছে। প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। সব কিছু জেনেও শেখ হাসিনা দুর্বিত্তদের, ত্বকীর ঘাতকদের পক্ষ নিয়েছেন। আজকে ত্বকীর ঘাতকরা বিদেশে রাজকীয় জীবনযাপন করছে। ত্বকী হত্যার বিচারের ১০৬টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে, দুইটি সরকারের বদল হয়েছে অথচ অভিযোগপত্র এখনো তৈরি হয় নি।
দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহামুবুর রহমান মাসুম প্রশ্ন করেন, ত্বকী হত্যার বিচারের জন্য আর কত কাল অপেক্ষা করতে হবে? সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াতো নারায়ণগঞ্জে এসে ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করেছিলেন। তাঁর সন্তান আজকের প্রধানমন্ত্রী। তবে কেন বিচারটা হবে না? বাধাটা কোথায়? সমাবেশে বক্তারা ত্বকী সহ সাগর-রুনী, তনু সহ নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সকল হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব সাংবাদিক হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা জিয়াউল ইসলাম কাজল, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবির জেলার সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস, বাসদ জেলা সদস্য প্রদীপ সরকার, চেম্বার অব কমার্সের সদস্য আহমেদুর রহমান তনু, আবৃত্তি শিল্পী ফাহমিদা আজাদ ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ্র সাহা।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।


































