নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় শুভ চন্দ্র দাস (৩০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং তিনজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)।
পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবার বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে ব্যবহার করে তাঁকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে সড়ক থেকে শুভ চন্দ্র দাসের গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে।
এ ঘটনায় শুভর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সদর মডেল থানার ৮ নম্বর মামলা। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
১০ ইয়াবার বিনিময়ে ডেকে আনার দাবি
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অনিক ও সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী শুভর সহযোগী সোহানকে ১০টি ইয়াবা দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরে অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল শুভর ওপর হামলা চালায়।
পুলিশের দাবি, এ সময় অনিক ও অহিদ শুভকে গুলি করেন এবং দলের অন্য সদস্যরা ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজনের পরিচয়
গ্রেপ্তার মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমনের বয়স ৪৫ বছর। তাঁর বাবার নাম কালু মিয়া এবং মায়ের নাম মৃত ফরিদা বেগম। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি বন্দর থানার খানবাড়ি মোড় এলাকার সুফিয়ানের বাড়ির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন।
সিয়াম আহমেদ সিজানের বয়স ২১ বছর। তাঁর বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন ও মা শাহনাজ বেগম। তাঁর ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আমলাপাড়া এলাকার ২১ নম্বর কেবি সাহা বাইলেন।
মো. সোহানের বয়স ২৪ বছর। তাঁর বাবা মৃত সমর্চান সরদার এবং মা মৃত শেফালী বেগম। তাঁর ঠিকানাও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার আমলাপাড়া এলাকার ২১ নম্বর কেবি সাহা বাইলেন।
মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে অনিক, অহিদসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।


































