নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মিশুক। কখনো উল্টো পথে, কখনো হঠাৎ সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো নিত্যদিনের এমন চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যানজট ও পথচারীদের ভোগান্তি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, কালীরবাজার, গলাচিপা, নিতাইগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মিশুকগুলো বেপরোয়া ভাবে চলাচল করছে।
অনেক চালক হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন। কেউ কেউ দ্রুতগতিতে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছেন। আবার ফাঁকা সড়ক পেলেই অনেকে উল্টো পথে চলছেন।
এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। বিশেষ করে ব্যস্ত মোড়গুলোতে হঠাৎ করে এসব যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা যাত্রী ওঠানোর জন্য রাস্তার মাঝখানে থামিয়ে দেওয়ায় পেছনে থাকা যানবাহনকে আকস্মিকভাবে ব্রেক করতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়েও নারায়ণগঞ্জ শহরে মিশুক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার উল্টো পথে চলাচল ও দুর্ঘটনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব যান উল্টো পথে চলাচল করায় যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার কথা স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শহরে ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় এসব যান নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট সংখ্যায় চলাচলের ব্যবস্থা করার আলোচনায় এসেছিল। তবে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হয়নি।
চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মিশুক চালকের যথাযথ প্রশিক্ষণ নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় তাঁরা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালান। আবার যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ছোট সড়কেও অতিরিক্ত যান চলাচল করছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় পথচারী রফিক ভূঁইয়া বলেন, “রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়ও এখন সতর্ক থাকতে হয়। কোন দিক থেকে রিকশা বা মিশুক এসে সামনে পড়ে, বোঝা যায় না। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দ্বারা দুর্ঘটনার শিকার হওয়া শিক্ষার্থী আল রাজি তুষার জানান, সম্প্রতি চাষাঢ়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আহত হন। এতে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই তাকে পরীক্ষা দিতে হয়।
এমনকি শহরের বিভিন্ন সড়কে একই নম্বর প্লেট ব্যবহার করে একাধিক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অভিযোগও রয়েছে। চলতি বছরে এমন অভিযোগের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
শুধু যানজট নয়, প্রাণহানির আশঙ্কাও
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাইরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেও ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার চলাচল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে এসব যান চলাচল এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত যানকে একেবারে উন্মুক্তভাবে চলতে দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হঠাৎ করে সব যান বন্ধ করে দেওয়াও বাস্তবসম্মত সমাধান নয়। প্রয়োজন নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট, চালকদের প্রশিক্ষণ, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ।
অন্যদিকে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরের বৈধ রিকশা, মিশুক, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ির মালিকদের ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মিশুক এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের মাধ্যম। তাই এসব যানকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে যাতায়াতের সুবিধার এই যানগুলোই একসময় নগরবাসীর জন্য বড় নিরাপত্তাঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।


































