নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় ‘ডিজিএফআইয়ের সদস্য’ পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চক্রের ভুয়া ডিজি এফ আইয়ের তিন সদস্য কে গ্রেফতার সহ অপহৃত সিএনজি চালক কে আহতবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় অপহরনের কাজে ব্যবহৃত একটি কালে রংয়ের পাজারো জিপ, দুটি
ওয়াকিটকি,একটি হ্যান্ডকাপ, ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর পরিচয়ের ভিজিটিং কার্ড ও একটি লাঠি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ঢাকার কদমতলী এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন (৩৮) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরদ হলেন মাহাবুব আলম রায়হান (৩৬), সাদ্দাম কাজী (৩৫) ও নাসির (৩৬)। তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনার শিকার সিএনজি চালক আলাউদ্দিন সাইনবোর্ড সিএনজি স্ট্যান্ডে গাড়ি নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি পুরাতন পাজারো গাড়ি তার সামনে এসে থামে। গাড়ি থেকে তিনজন নেমে নিজেদের কে সরকারি গোয়োন্দা সংথা ‘ডিজিএফআই'র সদস্য’ বলে পরিচয় দেন।
তাদের হাতে ছিল হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও লাঠি। লাঠি দিয়ে তারা বেশ কয়েকটি সিএনজি বেবি টেক্সির সামনের গ্লাস ভাংচুর করে। সরকারি গোয়েন্দা ডিজিএফ আই'র সদস্য পরিচয় দেওয়ায় ভয়ে সামনে কেউ এগিয়ে আসেনি এবং প্রতিবাদটুকু করার সাহস করেনি।
তারা আলাউদ্দিনকে সিএনজি থেকে নামতে বলেন এর কারণ জানতে চাইলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে পাজারো গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে পাজারো জিপটি সাইনবোর্ড এলাকা থেকে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরতে থাকে এবং মারধর করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে দাবী করে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়।
বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ তখন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফ আই এফ সহ প্রশাসনের একাধিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করলে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে সিএনজি চালক কে অপহরন করা ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য।
তৎক্ষনাৎ ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলমের নেতৃত্বে ফতুল্লা থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নামে এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লা থানার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূইঘরস্থ পাসপোর্ট অফিসের পাশের প্রধান সড়ক থেকে ওই পাজারো গাড়িটি আটক করে।
পরে গাড়িতে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়। এ সময় একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে যায়। পুলিশ আহত অবস্থায় আলাউদ্দিনকে গাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রেস সদস্য। তারা দীঘদিন ধরে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারীবাহিনীর পরিচয় বহন করে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ লিংক রোড থেকে বিভিন্ন পশাজীবি মানুষকে অপহরন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে অর্থ আদায় করে আসছিলো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে সিএনজি চালক কে অপহরন করে
ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। পরে তার নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান নামে। রাত একটার দিকে পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে সিএনজি চালক কে উদ্ধার সহ তিনজন কে গ্রেফতার করে। এ সময় অপহরনের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রংয়ের পাজারো জিপ গাড়ী, দুটি ওয়াকিটকি,একটি হ্যান্ড কাপ, ডিজিএফ আই ইন্সপেক্টর লেখা একটি ভিজিটিং কার্ড সহ লাঠি উদ্ধার কর হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সিএনজি চালক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
এর মধ্যে গ্রেফতারকৃত মাহাবুব আলম রায়হানের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাপ, ‘ডিজিএফআই ইন্সপেক্টর’ পরিচয়ের একটি ভিজিটিং কার্ড এবং একটি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। কার্ড ও সিমে একই মোবাইল নম্বর উল্লেখ্য ছিলো তিনি জানান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন থানায় বহু সংখ্যক মামলা রয়েছে।


































