নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও অধিগ্রহণের অর্থ বরাদ্দের চেক প্রদান স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত মুদিদোকানি শাহীন (৪৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহীন বন্দর থানার ১ নম্বর ঢাকেশ্বরী এলাকার আব্দুর রশিদ মিয়ার ছেলে।
মৃত্যুর খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বন্দর থানার ১ নম্বর ঢাকেশ্বরী জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তায় শাহীনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে রাস্তায় দাঁড়ালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে মদনপুরের বারাকাহ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, বন্দরের ধামগড় ইউনিয়নের মৌজায় তাদের পৈতৃক ৮১ শতাংশ নাল জমি ভুলবশত আরএস রেকর্ডে অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা হলে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন।
পরবর্তীতে ওই জমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে অর্থ বরাদ্দের চেক প্রদান স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে আবু সাঈদ, লিয়াকত হোসেন, রহমান, জলিল, আল আমিন, সেলিম, রফিকুলসহ আরও ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহীনের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় শাহীনের মৃত্যুর পর হামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নিতে যাচ্ছে। বন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


































