নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৪ জুলাই ২০২৬

নাসিকে অন্তর্ভুক্তি: ফতুল্লার বড় অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে স্থানীয়দের আপত্তি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:১১, ১৩ জুলাই ২০২৬

নাসিকে অন্তর্ভুক্তি: ফতুল্লার বড় অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে স্থানীয়দের আপত্তি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণে ফতুল্লা ইউনিয়নের একটি বড় অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্থানীয় সরকার বিভাগ ফতুল্লা ইউনিয়নসহ মোট আটটি ইউনিয়ন নাসিকের আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপিত হলে তা বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

 

তবে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে ফতুল্লা ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নাসিকে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ এবং ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক অংশ অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করেন।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এলাকায় শিল্পকারখানা থাকায় ভাসমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি এবং কিছু এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকায় আংশিক অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিবেদনে ফতুল্লার বর্তমান বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাদের ভাষ্য, ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর—সবগুলো ওয়ার্ডই বর্তমানে ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পায়িত এলাকা। ফলে আংশিক নয়, পুরো ইউনিয়নকে নাসিকের আওতায় আনা উচিত।

 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের বাইরে থাকায় এলাকার পরিবেশগত বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে বালুবাহী ট্রাক চলাচলজনিত ধুলাদূষণ ও অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, পুরো ফতুল্লা নাসিকের অন্তর্ভুক্ত হলে এসব সমস্যা সমাধানে অধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

 

এদিকে, জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে গণ-আপত্তি ও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।