নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর থেকে এক গরুর খামারী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ডে ডেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করে। সারা রাত নির্যাতনের পর পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপনে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অপহৃত খামারী জুয়েল রানা শুভ বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ও গতকাল শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে অপহরণ চক্রের মুলহোতা সন্ত্রাসী টাইগার মোমেনের ছোট ভাই মো. সুমন গা ঢাকা দিয়েছে।
অপহৃত খামারী জুয়েল রানা শুভ অভিযোগ উল্লেখ করেন, উপজেলার কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ডে গত বুধবার রাতে নেত্রকোনা থেকে গরু কেনার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে সন্ত্রাসী টাইগার মোমেনের ছোট ভাই মো. সুমনের নেতৃত্বে খায়রুল অজ্ঞাত ৫-৬ একটি দল গাড়িতে করে নিয়ে যায়। একটি খামারে নিয়ে তাকে আটক করে সারা রাত নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তার পরিবার তাকে এ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাম হাতে আঙুল ভেঙ্গে ছবি পাঠায় তার পরিবারের কাছে। এক পর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয়ে কর্মরত পুলিশ সদস্য কাঁচপুরের বাসিন্দা ওসমান গণির মাধ্যমে এক ব্যাক্তিকে ডেমরা কোনাপাড়া এলাকায় দেওয়া হয়। পরে তাকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাঁচপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এঘটনায় মুক্তি পাওয়ার পর দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ও গতকাল শনিবার দুপুরে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অপহৃত জুয়েল রানা শুভ জানান, তিনি নেত্রকোনা এলাকায় গরুর খামারী। তাকে গরু কেনার কথা বলে খায়রুলের মাধ্যমে কাঁচপুর ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি গাড়িতে করে কাঁচপুর এলাকায় একটি মাছের খামারে নিয়ে মারধর করা হয়। এসময় তার পরিবারের কাছে টাইগার মোমেনের ছোট ভাই মো. সুমন ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। এক পর্যায়ে তার হাতের আঙুল ভাঙার ছবি দেখিয়ে বিকাশ ও নগদে এক লাখ টাকা নেয়। এসময় তার পরিবারের কাছে ডিবি পুলিশ আটক করেছে বলে প্রচার করা হয়। পরে তার বন্ধু ঢাকায় ডিবিতে কর্মরত ওসমানের মাধ্যতে আরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
তিনি দাবি করেন, ডিবিতে কর্মরত ওসমানের নেতৃত্বে কাঁচপুর এলাকায় একটি চক্র গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়। মামলার ভয়ভীতি দেথানো হয়। তিনি মুক্তি পেয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে গতকাল সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ক্ষুদে বার্তা দিয়ে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, অপহরণের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































