নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ বাগাতে যুবদল নেতাদের শোডাউন, মিছিলে অপরাধী ও বিতর্কিতদের ভিড়

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:৫৭, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ বাগাতে যুবদল নেতাদের শোডাউন,  মিছিলে অপরাধী ও বিতর্কিতদের ভিড়

আসন্ন নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলে চলছে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বড় বড় শোডাউনের প্রতিযোগিতা। নিজেদের বলয় ভারী করতে এসব মিছিল-সমাবেশে লোকবল বাড়ানো হচ্চে। আর সেই লোকবলের সারিতে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, অপরাধপ্রবণ ও বিভিন্নভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত কর্মীদের দেখা গেছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। বিতকির্তদের নিয়ে পদপ্রত্যাশী নেতাদের এমন শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় ক্ষুব্ধ দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত কর্মীরা।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মনিরুল ইসলাম সজলকে আহ্বায়ক, সাগর প্রধানকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাহেদ আহমেদকে সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের তিন সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর দেড় বছর পর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় যুবদল।

 

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আহ্বায়ক কমিটির  দায়িত্ব থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের অধীনস্থ ইউনিটগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। তবে ২০২৩ সালে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর একাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন মূল কমিটি গঠন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকায় এর কার্যক্রম ও মেয়াদ নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

 

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্বকে ঘিরে একদিকে কোন্দল ও বিভাজন বাড়ছে, অন্যদিকে আসন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের শক্তি দেখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে নেতৃত্বের সাংগঠনিক দুর্বলতা, স্বজনপ্রীতি এবং দলের মূল ধারার কর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগও রয়েছে।

 

এদিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফের অনুসারী এবং রাকিবুর রহমান সাগর সমর্থিত বলয়টি মহানগর যুবদলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। 

অন্যদিকে পদ ধরে রাখতে সজল-শাহেদও শোডাউন দিয়েছে। থেমে নেই সাগর প্রধানও।

মোটকথা আগামী দিনের নেতৃত্বে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এখন বিভিন্ন কর্মসূচি ও শোডাউনে সক্রিয় হচ্ছে একাধিক পক্ষ।

তবে এসব শোডাউনে লোকবল বাড়ানোর ধরন নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিজেদের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করতে বড় মিছিল দেখানোর প্রতিযোগিতা চলছে। আর সেই মিছিল বড় করতে প্রথমে এলাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে যোগ হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত একটি অংশ। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত এবং বিএনপির নাম ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তি ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত কর্মীদেরচচও শোডাউনে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

 

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক কর্মী দিয়ে বড় জমায়েত গড়ে তোলার পরিবর্তে পাড়া-মহল্লার প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল ভারী করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রকৃত কর্মীদের ভূমিকা যেমন কমছে, তেমনি অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

 

মহানগর যুবদলের এক নেতা বলেন, দলীয় কর্মসূচি এখন অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে নিজস্ব বলয় প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। রাজপথে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করা ত্যাগী কর্মীরা পিছনে পড়ে থাকছেন। আর নিজেদের মিছিল বড় করতে সামনে আনা হচ্ছে কিশোর গ্যাং, অপরাধপ্রবণ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের।

 

নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আহ্বায়ক কমিটি বহাল থাকা এবং নতুন কমিটি গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। ফলে সাংগঠনিক কর্মসূচির পাশাপাশি শোডাউন ও লোকবল প্রদর্শন পদ পাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠছে। এতে ত্যাগী কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

 

তাদের মতে, মিছিলের আকার বা লোকসংখ্যা দিয়ে নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে নেতৃত্ব বাছাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং সদস্য, অপরাধপ্রবণ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুক্ত করার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়: