নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বড় ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের হামলায় প্রতিবন্ধী ছোট ভাই, তার প্রতিবন্ধী ছেলে ও স্ত্রীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা ও ৮ আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বন্দর থানার বালুরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন—প্রতিবন্ধী মোতাব্বর (৩৮), তার ৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী ছেলে রোহান, স্ত্রী রুমা বেগম (২৭), শ্বশুর মোজাম্মেল (৭৫) ও প্রতিবেশী হানজেলা (১৫)। গুরুতর আহত মোতাব্বরকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মোতাব্বরের স্ত্রী রুমা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—বালুরচর এলাকার মৃত হযরত আলী মিয়ার ছেলে মোতালেব (৪৮), তার স্ত্রী তাসলিমা (৩৬), ছেলে তুহিন (১৯) এবং বানু বেগম (৬৫)। অভিযোগে আরও একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে মোতাব্বর ও তার পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কারণে মোতাব্বরের পরিবার অন্যত্র বাসা ভাড়া নিয়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
শনিবার দুপুরে বসতঘরের আসবাবপত্র সরানোর সময় অভিযুক্তরা তাদের বাসা ছাড়তে নিষেধ করেন এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে মোতাব্বর গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় মোতাব্বরকে রক্ষা করতে তার স্ত্রী, প্রতিবন্ধী ছেলে, শ্বশুর ও প্রতিবেশী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করেন রুমা বেগম।
এ বিষয়ে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।


































