নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এ এইচ এম আনোয়ার প্রধানের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদও স্থগিত করা হয়েছে তার। সম্প্রতি বার ভবনে নিচে বিএনপির দুই পক্ষের মুখোমুখির ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়া এবং দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় চিঠিতে উল্লেখ
করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্যসচিব এডভোকেট মো. আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়া এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আনোয়ার প্রধানের নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে আনোয়ার প্রধান যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা পর্যালোচনা করে মহানগর বিএনপির নেতারা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাদের দাবি, নোটিশের জবাবে তিনি অভিযোগের যথাযথ ব্যাখ্যা না দিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
চিঠিতে আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিবের ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি নোটিশের জবাবে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৬ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে আনোয়ার প্রধান আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। দলীয় নেতাদের দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মহানগর বিএনপির নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
এ ছাড়া চিঠিতে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে এসব বিষয়ে তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক হয়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও আনোয়ার প্রধানের ভূমিকার প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সাধারণ সম্পাদক পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয় এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তার বক্তব্য ও ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
চিঠিতে মহানগর বিএনপির নেতারা দাবি করেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক অবস্থানের বিষয়ে আনোয়ার প্রধানের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। এ কারণে তার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর দেওয়া জবাব দলীয় নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া চিঠিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রসঙ্গ তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
চিঠির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আনোয়ার প্রধানের নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
তবে এই পদ স্থগিতের বিষয়কে রাজনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা ও শীর্ষ পদের অপব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির অন্য পক্ষের নেতা কর্মীরা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে পদ স্থগিতের পত্র পোস্ট করে আনোয়ার প্রধান বলেন, আমাকে যারা অন্যায় ভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করলো, তাদের বিচার বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের কাছে দিলাম। নিশ্চয়ই আমি এই বিষয়ে বিএনপির মাননীয় চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করব। ইনশাআল্লাহ। সবার আগে বাংলাদেশ।


































