নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গিয়াসউদ্দিনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান ফতুল্লাবাসীর

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:৫১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গিয়াসউদ্দিনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান ফতুল্লাবাসীর

অবশেষে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত বহু অপকর্মের হোতা বিএনপির বহিস্কৃত নেতা গিয়াসউদ্দিনের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে। এই আসন থেকে এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করেছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে।

৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ ভোটার অধ্যুষিত ফতুল্লায় তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট। ফলে তিনি জামানত হারাচ্ছেন। অথচ প্রচার-প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যাপক সমালোচনা করে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন, এমনটাও বলেছেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় গিয়াসউদ্দিন এতো কম ভোট পেয়েছেন যার জন্য তিনি জামায়ানত হারাচ্ছেন। মোটকথা ফতুল্লাবাসী তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন। এমনটাই বলাবলি হচ্ছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিনের পূর্বের নানা অপকর্ম গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় আলোচিত হচ্ছিল। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রকাশ্যে কেউ না বললেও তার পেছনে নানা সমালোচনা চলমান ছিল। তিনি মুখে বলতেন এক আর করতেন আরেক। মানে তার কথা ও কাজে মিল নেই। 

এমনভাবে বক্তব্য বা কথা বলেন, তিনি যেন সুফি সাধক। কিন্তু তার শরীরের পশমে পশমে শয়তানী আর ষড়যন্ত্র। কাকে কখন কিভাবে ঘায়েল করবেন, কার সম্পদ কিভাবে দখল করবেন, কাকে কোন নাটক সাজিয়ে মামলায় ঢুকাবেন, কার ব্যবসা বাণিজ্য কিভাবে দখল করবেন, অবৈধ পন্থায় কিভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা কামানো যায় এসস চিন্তাই তার মাথায় থাকে সব সময়। 

৫ আগস্টের পর তার মামলা বাণিজ্য থেকে রেহাই পায়নি বিভিন্ন এলাকার নিরিহ মানুষ ছাড়াও তার এলাকার বহু মানুষ। মিথ্যাভাবে তাদের মামলায় জড়িয়ে সুবিধা নিয়েছেন। ফলে মানুষ গিয়াসউদ্দিনের উপর ক্ষুব্দ ছিল।

এদিকে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীও গিয়াসউদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন আমার চারপাশে যারা থাকে, তারা তো একসময় আপনারই শিষ্য ছিল।

এখন তারা আপনার কথা শোনে না বলেই কি তারা মন্দ লোক হয়ে গেছে? আজকে আপনি তাদের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু বলছেন। আপনিতো তাদের ওস্তাদ ছিলেন। তাহলে বুঝুন ওস্তাদের কি অবস্থা।

৫ আগস্টের পর জাহাজ কেটে বিক্রি করা, বিসিক এলাকায় মহড়া দেওয়া, ইপিজেডের জুটের ট্রাক লুট করার মতো ঘটনাগুলো কারা করেছে- সেটা জনগণ জানে।

ওদিকে গিয়াসউদ্দিনের ঘনিষ্ঠজনরা বলতে শুরু করেছেন, হিংসা আর দাম্বিকতা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গিয়াসউদ্দিন ও তার ছেলেদের নানা অপকর্ম শোচনীয় এই পরাজয়ের পেছনে কাজ করেছে। তাছাড়া ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ফতুল্লায় সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন গিয়াসউদ্দিন। 

বিসিকের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, চোরাই তেল সেক্টর, ভূমিদস্যুতাসহ সব কিছু হয়েছে তার ইশরায়। তার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষ।

২০০৪ সালে ডিএনডির ভেতর ফতুল্লার লালপুর. পৌষাপুকর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রায় ৪৫দিন পানিবন্দি ছিল। অবর্ণীয় র্দুভোগের শিকার হয়েছিল পানিবান্দি মানুষ। পানি নিস্কাশনে গিয়াস উদ্দিন কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। বরং অভিযোগ ছিল গিয়াসউদ্দিনের লোকজন ডিএনডির ভেতর পানি আটকিয়ে মাছ চাষ করেছে। যার কারণে পানি নিস্কাশর বাধাগ্রস্থ হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। 

ফলে এই নির্বাচনে সেই সময়ের ভোগান্তির কথা মানুষের মনে পড়ে গেছে। যার কারণে গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনী প্রচারনার সময় ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে যখনই কথা বলেছেন তখনই মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরী হয়েছে।

গিয়াসউদ্দিনের ওই সময়ের অপকর্ম, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা এবং জলাবদ্ধতার ভোগান্তির জবাব দিয়েছে ফতুল্লাবাসী ব্যালটের মাধ্যমে ১২ই ফেব্রুয়ারি। এমন কথাই আলোচিত হচ্ছে মানুষের মাঝে।
 

সম্পর্কিত বিষয়: