নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০২ অক্টোবর ২০২২

আমি একদম একা হয়ে গেছি : আইভী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:০৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আমি একদম একা হয়ে গেছি : আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নগর পরিষ্কারের দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের। পুলিশ প্রশাসন এসপি সাহেবের আন্ডারে। ম্যাজিস্ট্রেট ডিসি সাহেবের আন্ডারে। আমাদের তো সিটি পুলিশ ,সিটি ম্যাজিস্ট্রেটই নাই। তাহলে হাত পা বাইন্দা ভোট দিয়ে ওই চেয়ারে বসায় দিছেন। তারপরেও জীবন বাঁজি রেখে উচ্ছেদে গেলাম। দেড় বছর মামলায় ঘুরছি। নারায়ণগঞ্জ থানা মামলা নেয় নাই। কোর্টে মামলা করতে গেছি, কোর্ট আমাদের মামলা নেয়নি। হাইকোর্টের অর্ডার নিয়ে দেড় বছর পরে ৭ জনের নামে মামলা করছি। আমি মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি। আমার নির্বাচনের সময় শর্ত ছিল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আমি মামলা প্রত্যাহার করি নাই। হয়তো প্রশাসন তাদের পক্ষে রায় দিবে কিছুই হয়নি  নারায়ণগঞ্জে। ইতিমধ্যে প্রশাসন থেকে যে মামলা করা হয়েছিল সেখানে তারা রিপোর্ট দিয়েছে,  এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। আমরা নারাজি দিয়েছি। দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে পিস্তল উচিয়ে মেয়রের উপর আক্রমণ, তারপরেও বলে কিছু হয়নি। কোথায় যাবো আমি, উচ্ছেদ কিভাবে করব। নারায়ণগঞ্জের সবাই চুপ হয়ে গেছেন। সব সংগঠন চুপ, প্রেসক্লাব চুপ, আমরা নারায়ণগঞ্জ সংগঠন চুপ, কেউ সত্যি কথা বলে না। আমি একদম একা হয়ে গেছি। আমার কাউন্সিলরাও বলে না। তারাও সব জায়গায় সমঝোতা করে চলে। কারণ উপায় নাই। দুই-চারটা মামলা তারাও খাবে নয়তো। আমি যতটুকু সম্ভব প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়ে কাজগুলো চেষ্টা করি। র‌্যাব আগে সহযোগিতা করত, এখন র‌্যাব বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে আসেনা। নারায়ণগঞ্জ থানার ওসি মাঝেমধ্যে চেষ্টা করে। এদের কে বসায় আমরা সবাই  জানি। এই শহেরর মানুষ টাকা তুলে। কিন্তু আমরা বলতে পারিনা। শহরবাসীকেও আওয়াজ তুলতে হবে। 


 
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলী আহম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তনে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ নাসিকের কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আইভী বলেন,  চাষাড়া ডাক-বাংলো থেকে কমলাপুর পর্যন্ত একটি রাস্তা  হওয়ার কথা ছিল কিন্তু কেন কি অজানা কারণে সেই রাস্তা বন্ধ হয়েছে আমি বলতে পারি না। আমি নদীর পাড় গেসে বিকল্প রাস্তা তৈরীর চেষ্টা করে যাচ্ছি। নদীর পাড় গেসে রাস্তা করা খুবই কঠিন। কারণ, ওই জায়গা নৌ মন্ত্রানালয়ের, ওই জায়গা ডিসি সাহেবের কাসের জায়গা। তারপর জনগনের জায়গা। যে রাস্তা গুলো আছে, সেগুলো রক্ষা করতে পারছি না। এই শহরে কি পরিমান  হকার বসে। মীরজুমলা রোড আর নেই বলা চলে। এতো কষ্ট করে এই  রোড উদ্ধার করেছিলাম। এক বছরেও সেই রোড রাখতে পারিনি। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মীর জুমলা সড়কে টেন্ডার দিতো না। কিন্তু ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন হলো, সাময়িকভাবে ৪ মাসের জন্য মেয়রকে সড়ে যেতে হলো, প্রশাসক এসে মীরজুমলা সড়ককে টেন্ডার দিয়ে দিলো। আমি যখন এসে বন্ধ করতে চাই আমার হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা আমাকে বলে , আপনি এক কোটি টাকার আয় বন্ধ করলে, অডিট অবজেকশন দিবে। আমি অনেক কিছু চিন্তা করে দেখলাম, যেহেতু এই সড়ক প্রশাসন আমি কেউ পরিষ্কার করতে পারি না, তাহলে সেখানে বাজারই থাক। শায়েস্তা খান রোডও এরমধ্যে দখল হয়ে গেছে। পুরোপুরি হকারদের আন্ডারে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এই রোডও দখল চলে যাবে। এর পিছনে কারা? প্রশাসনিক সহযোগিতা ওইখানে কেউ বসতে পারেনা। 

 

মেয়র আরও বলেন আটা-ময়দা মালিক সমিতিকে বলছি, আপনারা সঠিকভাবে গাড়ি রাখেন। কোন দেশে এই জুলুম আছে যেখানে, আমার ২০টা ট্রাক থাকলে আমি রাস্তায় পার্ক করে রাখব। আমি মাসোয়ারা দিবো প্রশাসনকে। কিন্তু নাগরিক হাঁটতে পারবেনা। বহু মানুষ মাসোয়ারা নেয়। নিয়ে তারা চুপ থাকে। শুধু প্রশাসনের দোষ নয়, অনেক শ্রেনী পেশার মানুষ নেয়। যারা মাসোয়ারা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে তাদের লজ্জা করেনা। অবৈধ ট্রাক রাখবে রাস্তায়। প্রশাসন যদি সুনামধন্য ব্যক্তিদের একটা বাসকে যদি মামলা দেয়, ওই ট্রাফিক ইন্সপেক্টরের তো ওইদিনই বিদায় করে দিবে। ট্রান্সফার হয়ে যাবে। হয়েছেও ইতিমধ্যে। শীতল বাসকে মামলা দেওয়া যাবেনা! মৌমিতাকে মামলা দেওয়া যাবে না। তারা চাষাড়া দেয়েই চলবে। নারায়ণগঞ্জ শহরে অত্যাচার এখন এতোটা বেড়েছে, সেটা বলার মতো নাহ। খুন হয়তো বন্ধ হয়েছে, অন্য অত্যাচার বেড়েছে। এক শ্রেনীর লোক ও প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু লোক। সবাই নাহ। যারা ভালো কাজ করতে চায় তারা তাদের কাছে অসহায় হয়ে যাচ্ছে। শায়েস্তাখান রোডে যে ছেলে টাকা তোলে, সে আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছিল। এই শহরেই ঘুরে, কারণ ওনি নারায়ণগঞ্জ শহরের বড় ভাইদের লোক। 

 

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ নিয়ে আইভীর ক্ষোভ


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে রাজস্ব ও উন্নয়নসহ ৫৮৮ কোটি ৬৯ লক্ষ ১০ হাজার ৬৩৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে মোট ৫৮৮ কোটি ৬৯ লক্ষ ১০ হাজার ৬৩৮ টাকা আয় এবং ৫৫৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৯ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বছর শেষে ঘোষিত বাজেটে ২৯ কোটি ২৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ১৫৯ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে।
 
 

সম্পর্কিত বিষয়: