নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

২১ জুন ২০২৪

পরিবেশ দূষন তথা শব্দ দূষণের প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয়

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:০৪, ২৭ এপ্রিল ২০২৩

পরিবেশ দূষন তথা শব্দ দূষণের প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয়

শব্দ দূষণ পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ।প্রাণীর শ্রবণ সীমার বাইরে যে কোনও শব্দ তৈরির কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্ভাবনাকে বোঝায়। কলকারখানা, পরিবহন, নির্মাণকাজ, নির্বাচনী প্রচারণাসহ বিভিন্ন কাজে লাউডস্পিকার ব্যবহার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শব্দ সৃষ্টি করে,শব্দ দূষণ শ্রবণশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য এবং আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি করে।

 

অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত শব্দ একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক কার্যকলাপকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।অনেক পরিবেশবিদ বাংলাদেশে শব্দ দূষণের বর্তমান পর্যায়কে 'শব্দ সন্ত্রাস' বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান প্রায় সময়ই প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে থাকে।

 

এর অন্যতম প্রধান কারণ শব্দ দূষণ।বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

 

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২৬% মৃত্যু হয়।পরিবেশ দূষণজনিত অসুস্থতার কারণে- কিন্তু বিশ্বব্যাপী গড় মৃত্যুর হার মাত্র ১৬ শতাংশ।একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা দেশে ২০ শতাংশ মানুষ বধির। এবং ২০ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু। প্রায় ১১ শতাংশ ট্রাফিক পুলিশের শ্রবণ সমস্যা রয়েছে।

 

আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ৭১ শতাংশ মানুষ শব্দ দূষণের কারণে হতাশা ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলায় সদিচ্ছার পাশাপাশি সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শব্দ দূষণ  মানবসৃষ্ট একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশগত সমস্যা। আমরা অফিসে,রাস্তায়,বাড়িতে,এমনকি অবসর সময়েও শব্দ দূষণের শিকার হই।


শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা (২০০৬) অনুসারে, দিন ও রাত ভেদে পাঁচটি অঞ্চলে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যেমন- নিরিবিলি এলাকা, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, শিল্প এলাকা এবং মিশ্র এলাকা। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের কোথাও এই মাত্রা মেনে চলা  হয় না, সর্বত্র এই মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দ পাওয়া যায়।

 

ঢাকা শহরের এমন কোনো রাস্তা বা এলাকা খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে শব্দের মাত্রা ওই  নির্ধারিত মাত্রার মধ্যে রয়েছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ নয়েজ কন্ট্রোল বলছে, শব্দের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা বা স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশেও শিশুর জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

 

শব্দ দূষণের কারণে রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট এমনকি হজমের সমস্যাও হতে পারে।মানুষ সাধারণত ২০-২০,০০০ হার্টজ সীমার মধ্যে শব্দ শুনতে পায়। এই সীমার বাইরে অতিরিক্ত জোরে শব্দ হলেই তা শব্দ দূষণ হিসেবে পরিগনিত হয়।


শব্দ দূষণের প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয়ঃ-যানবাহন থেকে নির্গত শব্দের তীব্রতা হ্রাস করার জন্য  উন্নত প্রযুক্তির ইঞ্জিন এবং সাইলেন্সার ব্যবহার নিশ্চিত করা,গণপরিবহনের শব্দ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্রিয় হওয়া উচিত।

 

ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে, বাস, জাহাজ, কলকারখানা এবং লাউডস্পিকার এর আওয়াজ নির্দেশিত স্তরে বা নীচে বজায় রাখতে হবে;  সামাজিক অনুষ্ঠানে ডিজে পার্টি বা ব্যান্ড মিউজিকের আয়োজন করা হয়, যা শব্দ দূষণের সৃষ্টি করে, যার ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ আশেপাশের প্রায় সকলের সমস্যা হয়; লাউডস্পিকার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।

 

বিয়ে বাড়ির প্যারেডে ব্যান্ড বাজানো, পটকা ফাটানো বন্ধ করা; শব্দ দূষণ আইন মেনে চলার জন্য সবাইকে অবহিত করা; একই সঙ্গে বিবেক নিয়ে সক্রিয় নাগরিকের ভূমিকা পালন করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

 

আমরা বিশ্বাস করি যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে  শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মোঃ রফিকুল ইসলাম
উন্নয়ন কর্মী, জেএসএ

সম্পর্কিত বিষয়: