নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

১৯ জুন ২০২১

ফতুল্লায় অপ্রতিরোধ্য ইজিবাইক চোর ও ছিনতাইকারী চক্র

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:৪৬, ৩১ মে ২০২১

ফতুল্লায় অপ্রতিরোধ্য ইজিবাইক চোর ও ছিনতাইকারী চক্র

ফতুল্লায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চোর এবং ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও থেকে অটোরিকশা চালকদের নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে কিংবা অস্ত্রেও মুখে জিম্মি করে ও কুপিয়ে রিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।

 

এ সময় কোনভাবেই চালক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে কখনো অটোরিকশাটি রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রান হারাতে হচ্ছে সাধারন রিকশাচালকদের। অপ্রতিরোধ্যভাবে এমন ঘটনা অহরহ ঘটনায় এ পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক এবং চালকরা।


অপরদিকে ছিনতাই কিংবা চুরি হওয়া রিকশা ছাড়িয়ে আনতে দ্বারস্থ্য হতে হচ্ছে রিকশা ছিনতাইয়ের গডফাদারদের কাছে। রিকশা মালিক পক্ষে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনা হচ্ছে ছিনতাইকৃত রিকশাটিকে। এ সময় প্রকৃত মালিককে ছিনতাইকারীদের কাছে অসহায়ত্ব বরন করতে হচ্ছে। 


অবশ্য স্থাণীয় প্রশাসন রিকশাচোর চক্রের সদস্যদের একাধিকবার গ্রেফতার হলেও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে মূল হোতারা। গ্রেফতারের কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে আসার পর আবার সেই পুরানো পেশাতেই ফিরে যাচ্ছে রিকশাচোরের সদস্যরা।


এ ব্যাপারে রিকশাচোরের সক্রিয় সদস্য এবং তাদেও শেল্টারদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারন অটোরিকশা ব্যবসার সাথে জড়িত মালিকগণ।


জানা যায়, সদর উপজেলার ফতুল্লায় একর পর এক রিকশা ছিনতাই ও চুরি হওয়াতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রিকশা পেশার সাথে জড়িত চালক এবং মালিকরা। ঘন ঘন রিকশা চুরি হওয়ায় ভয়তে অনেকে রিকশা চালানো পেশাকে ছেড়ে নিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের পিছনে ছুটছে। 


একের পর এক ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সাধারনত রিকশা ব্যবসার সাথে যারাই জড়িত বিভিন্ন এনজিও সংস্থা খেকে লোন দিয়ে পরিবারের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকার নির্বাহ করে থাকেন। 


এমতবস্থায় রিকশা চোর কিংবা ছিনতাইকারীরা যদি জীবিকা নির্বাহের জন্য একমাত্র সম্বল টুকু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাহলে ভোক্তভোগী ঐ পরিবারটির অবস্থা কেমন হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


একদিকে কিস্তির চাঁপ অন্যদিকে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করার বিষয়টি চিন্তায় আসলেই দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে ভোক্তভোগী মানুষটি। একটা পর্যায় বিভিন্ন দুঃশ্চিন্তার কবল থেকে রক্ষা পেতে অনেকে পৃথীবির মায়া ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এমন একটা পর্যায়ে ভোক্তভোগী ওই পরিবারের অবস্থা কি হতে পারে তা অনুমেয়।


সম্প্রতি, শুক্রবার (২৮ মে)  দিনাগত রাত ২টায় ফতুল্লার শিয়াচরে মাথায় ও শরীরে এলোপাথারী কুপিয়ে আওলাদ হোসেন নামক এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে তার নিকট থেকে ইজিবাইক ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা করেছে অজ্ঞাত ছিনতাইকারীরা।


শনিবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা- নারায়নগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়  সাইনবোর্ড থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি জালকুড়ি যাওয়ার জন্য  চালক আনারুলের অটোরিক্সা ভাড়া করে। 


জালকুড়ি মোড়ে আসলে তাকে একটি গলির নিয়ে যায় এবং দোকান হইতে তাকে একটি সিগারেট কিনে আনতে পাঠায়। সে যাত্রীর কথা মতো সিগারেট কিনতে যায় এবং সিগারেট নিয়ে এসে দেখতে পায় অজ্ঞাত যাত্রীটি তার ইজিবাইক নিয়ে চলে গেছে। এ সময় ইজিবাইকে তার উপার্জিত ৬০০  টাকা ও তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিল।


৫ সেপ্টম্বর (২০২০)  রাতে ফতুল্লার দাপা বেপারি পাড়া থেকে যাত্রী সেজে মিশুক পরিবহনের চালক ওমর নামের এক ব্যাক্তির গাড়ীতে উঠেন। এ সময় চালক অটোরিকশাটি চালিয়ে ফতুল্লার সেহাচর লালখাঁ স্কুলের সামনে পৌছামাত্রই আগে থেকে উৎপেতে থাকা অজ্ঞাত ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্যরা চালককে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে মিশুকটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।


১৬ সেপ্টম্বর সকালে ফতুল্লা বাজারের সামনে চালের বস্তা আনার জন্য ক্রেতা সেজে দুইজন ব্যাক্তি ভাড়া নেন। চোরদের মধ্যে একজন রিকশার বসা থেকে এবং অপরজন মিশুক পরিবহরের চালককে নিয়ে চালের বস্তা ক্রয় করার জন্য যান।

 

মিশুক চালকের কাছে চালের বস্তা নিয়ে রাস্তায় এসে দেখে তার মিশুকটি চোরের নিয়ে গেছে। পরে অনেক খোঁজাখোজি করার পরও দুইজনের একজনকেও খোঁজে পায়নি চালক ইমরান।


২ জুলাই মুসলিমনগরের অবৈধ ইজিবাইক চোর চক্রের হোতা আরিফসহ কয়েজনকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। আরিফ হোসেন ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো- আরিফের ভগ্নিপতি বাবু, শাজাহান, রিপন, কামাল হোসেন ও সবুজ।


১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী সেজে চালক বেলাল মিয়া নামের এক অটোরিকশা চালককে হত্যার পর ইজিবাইক নিয়ে পালানোকালে তিনজন ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আটককৃতরা হলেন জাহিদ হাসান, রকিব এবং বোরহান।


১১ জুলাই দিবাগত রাতে ধর্মগঞ্জ ডালি পাড়া রোডস্থ এলাকা হতে র‌্যাব-১১ চোরাইকৃত ৫টি ব্যাটারি চালিত রিকশাসহ মোঃ বাবুল, মোঃ শরিফুল ও একজন কিশোরকে আটক করে।


১৩ আগস্ট ফতুল্লায় একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে আব্দুল কাদের (৩৫) নামে গ্যারেজ ম্যানেজারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লামাপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদের রিকশার গ্যারেজ থেকে তার লাশ পাওয়া যায়। 


ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চিহ্নিত চোর ও ছিনতাইকারী হচ্ছে, ভোলাইল এলাকার কাশেম, পিচ্ছি শাহিন, মাসদাইরের ফারুক, বেকারী মোড় আক্তার,  নরসিংপুর এলাকায়  বাবু, আরিফ হোসেন, শাজাহান, রিপন, কামাল হোসেন ও সবুজ। 


ধর্মগঞ্জ ডালিপাড়া  এলাকার বাবুল  শরিফুল  কাশীপুর এলাকার জসিম, তাজু,  রবিউল, জাহিদ হাসান, বোরহান, ভুইয়া পাড়ার হাসান শিবু মাটেক এলাকার শাহিন, কোতালের বাগের জিয়া, তল্লার খোকন, বুড়ির দোকানের সেলিম প্রমুখ।


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিকসা চালক ইউনিয়নের সধারন সম্পাদক আজিজুল হাওলাদার জানান, এই রিকশা চোর ছিনতাইকারীরা বিশাল সিন্ডিকেট।  মাঝে মাঝে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে তবুও তাদের নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যারা গ্রেফতার হচ্ছে তাদের বেশীর ভাগেই চুরির মামলায় আদালতে পাঠান। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: