নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

০৯ জানুয়ারি ২০২৬

বন্দরে ডাকাত সন্দেহে ৩ যুবককে গণপিটুনি, পুলিশে সোর্পদ  

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:৪৬, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

বন্দরে ডাকাত সন্দেহে ৩ যুবককে গণপিটুনি, পুলিশে সোর্পদ  

বন্দরে চাকুরি প্রত্যাশী কলেজ ছাত্র যুবককে প্রতারনা মাধ্যমে সর্বস্ব লুট করার সময় স্থানীয় জনতা  ডাকাত সন্দেহে ৩ যুবককে গনপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে। আটককৃতরা হলো বন্দর থানার নবীগঞ্জ নোয়াদ্দা এলাকার আসলাম মিয়ার ছেলে মৃদুল (১৯) একই এলাকার মোঃ হোসেন মিয়ার ছেলে রিয়াদ (২৪) ও একই থানার সোনাচড়া মুক্তার হোসেন মিয়ার ছেলে জুম্মান (১৮)।

এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী চাকুরী প্রত্যাশী যুবক ইব্রাহিম খলিল  বাদী হয়ে আটককৃত ৩ জনসহ আরো ৩/৪ জনকে  অজ্ঞাতনামা আসামী করে বন্দর থানায়  এ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ  আটককৃতদের নিজ হেফাজতে নিয়ে  প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর  বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী)  দুপুরে উল্লেখিত মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে।  এর আগে গত বুধবার (৭ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৭টায় বন্দর থানার  মনার বাড়ি তালতলা অটো স্ট্যান্ডের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। 

জানা গেছে, চাঁদপুর জেলার মতলব থানার আমিয়াপুর এলাকার আহছানুল্লাহ মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা মিরপুর মডেল থানার মিরপুর-১ আনসার ক্যাম্পে  বসবাস করে আসছিল। একই সাথে  ইব্রাহিম খলিল ঢাকা পল্লবী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ২য় বর্ষে পড়ালেখা করে আসছিল ।

ইব্রাহিম খলিল লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইনে রিমোট জব করে  অন্যত্র চাকুরির খোঁজ করছিল। সে সুবাদে ইব্রাহিম খলিল  অনলাইনে বিজ্ঞাপনে একটি চাকুরির খোঁজ পেয়ে উল্লেখিত বিবাদী মৃদুল, রিয়াদ ও জুম্মানের  ০১৩১৯৬৪১০২৯ নম্বরে যোগাযোগ করে। উল্লেখিত  বিবাদী মৃদুল, জুম্মান ও রিয়াদ চাকুরী প্রত্যাশী যুবক ইব্রাহিম খলিলকে চাকুরির দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বন্দরে আসতে বলে।

পরে ইব্রাহিম খলিল তাদের কথা মতে  গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায়  বন্দর থানাধীন তালতলা বাস স্টেশনে পৌছালে  উল্লেখিতরা প্রতারনা করে সন্ধ্যা ৭টায়  বন্দর থানার মনারবাড়ী তালতলা নামক স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর আরো ৩/৪ জন লোক সেখানে আসে। ইব্রাহিম খলিল কিছু বুঝে উঠার আগেই বিবাদী মৃদুল, রিয়াদ ও জুম্মান  এলোপাথারী কিল-ঘুষি, লাথি মারে এবং গায়ে থাকা চাঁদর দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করে।

ওই সময় ইব্রাহিম যাতে চিৎকার চেচামেচি না করি সে জন্য নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে উল্লেখিতরা  ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিলের সাথে থাকা ০১টি গুগুল পিগজেল-৭ মোবাইল, যাহার সিম নং- ০১৫১১৪৯৫৩৭৫, মানিব্যাগে থাকা প্রায় ৯০০ টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের এটিএম কার্ড নিয়ে যায়। ইব্রাহিম খলিলের  নিকট পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় বিবাদীগণ তার কাছে  ২০ হাজার টাকা দাবী করে।

যদি টাকা না দেয় তাহলে বিবাদীগণ ইব্রাহিম খলিলকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। বিবাদীগণ  টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায়  অটো রিক্সা যোগে জোরপূর্বক একস্থান থেকে আরেক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় ধস্তাধস্তি করে। ওই সময় ইব্রাহিম খলিল   অটোরিক্সা চলন্ত অবস্থায় অন্যান্য লোকজন দেখতে পেয়ে  চিৎকার চেচামেচি করলে স্থানীয় লোকজন  চিৎকার চেচামেচির শব্দ শুনে অটোরিক্সা থামিয়ে মৃদুল, রিয়াদ ও জুম্মানকে  আটকসহ  ইব্রাহিম খলিলকে  উদ্ধার করে।

পরে স্থানীয় লোকজন বিবাদীদের গণপিটুনি দিয়ে বন্দর থানা পুলিশে সোর্পদ করে। খবর পেয়ে  বন্দর থানা ও ধামগড় ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে আটককৃতদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।  
 

সম্পর্কিত বিষয়: