সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলীতে সানরাইজ মডেল স্কুলের বাউন্ডারি দেয়ালটি সম্প্রতি ধসে পড়ায় অরিক্ষত হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। দেয়াল ধসে পড়ার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের অপহরণের আশংকা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ধসে পড়া দেয়াল মেরামতের উদ্যোগ নিলে একটি স্থানীয় চক্র কাজ বন্ধ করে দেয়।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত সানরাইজ মডেল স্কুল। প্লে-গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমানাপ্রাচীর ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টি কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত বেড়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের কেউ অপহরণ বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।
এ ছাড়া বিদ্যালয়টি ব্যস্ত সড়কের পাশে হওয়ায় ভাঙা অংশ দিয়ে অনেক সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থী বাইরে বেরিয়ে যায়। এতে সড়কে চলাচলকারী অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ক্লাস চলাকালে শিক্ষকদেরও বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, চুরির ঘটনাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, গত পাঁচ মাসে বিদ্যালয় থেকে ১৭টি সিলিং ফ্যান, পানি তোলার মটর এবং বিদ্যুতের সার্ভিস তার চুরি হয়েছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিন মিয়া বলেন, "দেয়াল ভেঙে যাওয়ার পর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে আছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি।"
বিদ্যালয়ের পরিচালক ফারুক আউয়াল বলেন, "নিজেদের উদ্যোগে ভাঙা দেয়াল মেরামতের কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি স্থানীয় চক্র এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।"
বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন থাকেন। স্কুলে পাঠানোর পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। দ্রুত সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।


































