নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

০২ অক্টোবর ২০২২

যানজট নিরসনে ঢাকায় হকার উচ্ছেদ, নারায়ণগঞ্জে উদ্যোগ নেই 

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:৪৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

যানজট নিরসনে ঢাকায় হকার উচ্ছেদ, নারায়ণগঞ্জে উদ্যোগ নেই 

ফুটপাত নাগরিকদের হাঁটার সুবিধার্থে তৈরি হলেও পুরো দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে মানুষের হাঁটা এখন দুঃসাধ্য এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসা, এটা যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে। রাজধানীর সড়কে যানজট নিরসন ও হকার উচ্ছেদে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে এই একই সমস্যা প্রকট আকার ধারন করলেও যানজট নিরসন ও হকার উচ্ছেদে চোখে পড়ার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভুমিকা নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

 


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসা নিষিদ্ধ করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ফুটপাতে হকার বসছেই। এতে বাধ্য হয়ে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের উপর দিয়ে হাঁটতে হয়। হকারদের সঙ্গে পুলিশের চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা যা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। পুলিশের দেখা মিলতেই সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে ছুটে চলে হকাররা। কিন্তু পুলিশের নিত্যদিনের নামমাত্র টহল চললেও স্থায়ী সমাধানে নাসিকের কোন উদ্যোগ নেই। 

 


অভিযোগ রয়েছে, নাসিক পুলিশের উপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করে। অথচ ঢাকা দক্ষিনের মেয়র নিজেই মাঠে নামেন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে হকার উচ্ছেদ করেছেন। তাছাড়া নাসিক শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধু সড়কের বিশেষ করে চাষাড়া থেকে কালিরবাজার গ্রীণল্যান্ডজ ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত হকার মুক্ত রাখতে চায়। অথচ পুরো শহরের ফুটপাত হকারের দখলে। যেমন সলিমুল্লাহ রোড, চেম্বার রোড, শায়েস্থাখান সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টের ফুটপাত হকারের দখলে। তাদের নিয়ে নাসিক নিশ্চুপ।

 


তথ্যমতে, ডিএসসিসি রাজধানীর যানজট নিরসনে হকার  উচ্ছেদে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গুরুত্ব অনুযায়ী সড়ককে লাল, হলুদ ও সবুজ- এই তিন রঙে চিহ্নিত করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে হকারমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, হকার ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে রাজপথ ও পায়ে হাঁটা পথগুলোকে তিন রঙে চিহ্নিত করতে ডিএসসিসি একটি কমিটি গঠন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেসব রাস্তায় আছে, সেই রাস্তাগুলো লাল শ্রেণির বলে চিহ্নিত হবে। সেখানে হকার বসতে দেওয়া হবে না। হলুদ শ্রেণির রাস্তা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সিটি করপোরেশনের নির্ধারণ করে দেওয়া সময়ে ও স্থানে হকার বসতে পারবে। আর সবুজ শ্রেণির রাস্তা হবে সেসব এলাকা- যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু কিছু অংশে হকার বসতে পারবে। এসব জায়গায় হকার বসলে পথচারী বা যান চলাচলে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না।

 


এ ধরনের উদ্যোগকে বাহবা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সচেতনমহল। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের উৎপাত যে হারে বেড়েছে, এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের গ্রহণকৃত এরূপ কোন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শহরের যানজট সমস্যার সমাধান সহসা হবে না। 

 


আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূরউদ্দিন শহরের হকার উচ্ছেদ ও যানজট নিরসন প্রসঙ্গে বলেন, নাগরিকরা যাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারে সেজন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখাও জরুরি। কিন্তু আমাদের শহরে ফুটপাতের দুই পাশে এমন ভাবে হকার বসে, পথচারী ফুটপাতের বদলে রাস্তা দিয়ে চলে। যানজটের কথা আর কি বলব, যানজট ছাড়া শহরের সড়কগুলো এখন চিন্তা করা যায় না। দিন দিন শহরে হকার বেড়েই চলছে। বিভিন্ন সময় ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তা আবারও দখল হয়ে যায়। আর ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়টিও বহুল আলোচিত। মাঝেমধ্যে ফুটপাতে পুলিশ নামমাত্র টহল দেয়। যা আসলে ফলপ্রসূ নাহ। সাইনবোর্ড মোড়ে চাইলেও তো কোন হকার বসতে পারবে না। কারণ সেখানে কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এখানে নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদের যে উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে, সেটা বহাল থাকলে সেখানে যানজট অনেকটা কমবে। এবং নারায়ণগঞ্জ শহরে যানজটের যে অবস্থা,  শীগ্রই সকল প্রশাসন সমন্বিত উদ্যোগে এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি মারাত্মক হবে। সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নামমাত্র নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 


 নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম  এ বিষয়ে বলেন, হকার উচ্ছেদে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। তবে এ সমস্যার সমাধানে আমাদের কোন বিশেষ পরিকল্পনা এখন নেই। বিশেষ কোন পরিকল্পনা গ্রহন করলে জানানো হবে। 

সম্পর্কিত বিষয়: