নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

২১ জুলাই ২০২৪

টানা বর্ষণে নিমজ্জিত নারায়ণগঞ্জ, বিপন্ন জনজীবন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২০:২৪, ৭ আগস্ট ২০২৩

টানা বর্ষণে নিমজ্জিত নারায়ণগঞ্জ, বিপন্ন জনজীবন

টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলি বৃষ্টির পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে নগরবাসী ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষেরা পড়েন বিপাকে। জলাবদ্ধতার কারণে সড়কেও যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। 


ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকটি স্থানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও দিনব্যাপি ঝির ঝির ও থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান রাস্তাও তলিয়ে যায় পানিতে। এছাড়া বন্দর, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারের অনেক এলাকাতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে  জনভোগান্তীর সৃষ্টি হয়েছে। 


সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের চাষাঢ়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, মিশনপাড়া, গলাচিপা কলেজ রোড, রূপার বাড়ি, দেওভোগ নাগবাড়ি মোড়, জামতলাসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে স্বাভাবিক যানবাহন রিকশা চলাচলেও বাড়তি বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। আর এ সময় জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ পরে বিপাকে। 


এদিকে, সকালে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানে এসে দেখেন বিভিন্ন মালামাল পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। তাদের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।


শহরের সায়েম প্লাজা মার্কেটের বেবি শপের মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সকালে মার্কেটে এসে দেখি আমার দোকানে পানি। প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মালামাল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখান থেকে বেছে বেছে যেগুলো ভালো আছে সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছি।


নারায়ণগঞ্জ দোকান মালিক কমিটির সহ-সভাপতি আস সাফী বলেন, সামান্য বৃষ্টি আসলেই মার্কেটগুলোতে পানি প্রবেশ করে। রাতের বৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু সড়কের দুইপাশে প্রত্যেকটি মার্কেটেই পানি প্রবেশ করে। দোকানগুলোতে পানি প্রবেশ করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নজর দিলে আমাদের ব্যবসায়ীরা বারবার এই ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় না।


নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে আছি। কোনো রিকশা নেই। ভ্যান দিয়ে পানি পার হয়ে মূল সড়কে যেতে জন প্রতি ২০ টাকা করে নিচ্ছে। আমিও আমার এক সহপাঠী দর কষাকষি করে ত্রিশ টাকায় পার হলাম। অথচ এখানে পানি না জমলে ৩০ টাকায় আমি স্কুলেই চলে যেতে পারতাম।


শহরের চাষাঢ়ার বাসিন্দা ইফরান জানান, টানা বৃষ্টিতে নগরের বেহাল অবস্থা। দ্রুত যদি নাসিক এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে হয়তো সামনে আমাদের জন্য বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।


একইসঙ্গে তারা বলেছেন, এই বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এতে বাড়বে ডেঙ্গুর প্রকোপসহ নানা রোগবালাই । এ ছাড়াও নগরবাসী দ্রুত এ সমম্যা সমাধানে নাসিক মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, সারারাত অতিবৃষ্টির কারণে শহরের সব মহল্লা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আমরা ভোর থেকেই কাজ শুরু করেছি। আর যদি বৃষ্টি না হয় পানি নিষ্কাশন সম্পন্ন হয়ে যাবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য অহেতুক আমাদের গালমন্দ না করে একটু ধৈর্য ধরুন। সাময়িক কষ্টের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।


অপরদিকে ফতুল্লার লালপুর, পৌষা পুকুর পাড়, ইসদাইর, টাগারপাড়, আল- আমিন বাগ, সস্তাপুর, লালখা, দাপা, রেলস্টেশন, পাগলা, কুতুবপুর, নন্দলালপুর, শাহি মহল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি গোদরাইল, মধুগড়, দশপাইপ, কদমতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ রাস্তাই বৃস্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে রান্না ঘরে গ্যাসের চুলাও।


এসব এলাকার ভুক্তভোগীরা জানায়, টানা বৃস্টিতে রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার চরম ভোগান্তির সৃস্টি হয়েছে। রিক্সার জন্য বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করার পর রিক্সা পাওয়া গেলেও ভাড়া হাকিয়েছে দিগুন। চল্লিশ টাকার রিক্সা ভাড়া তাকে আশি টাকা দিয়ে যেতে হয়েছে।


অন্যদিকে বৃষ্টির পানির সাথে বিভিন্ন কলকারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য মিশে পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। পানি থেকে তীব্র ঝাঁঝ বেরুচ্ছে এবং ্এর দূর্গন্ধে শ^াস প্রশ^াস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। 


আবার অনেক এলাকায় রাস্তা কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যাবার পাশাপশি বাসা বাড়ির ভিতরেও পানি প্রবেশ করেছে।


গাবতলী ইসদাইর এলাকার বাসিন্দা ফারহান কবির প্রিয় বলেন, রাতভর বৃষ্টিতে আমাদের বাসার নিচতলা কোমর পানি পর্যন্ত ডুবে গেছে। হঠাৎ পানি প্রবেশ করে কিছু বুঝে ওঠার আগের সব আসবাবপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

 

আমার সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে বাসার ফ্রিজসহ আরও বেশ কিছু জিনিস পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় বাসার পানি সরাতে পারছি না। মোটর দিয়েও ফেলার উপায় নেই।


বুড়ির দোকান এলাকার অটোরিকশাচালক জয়নাল মিয়া জানান, পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে রিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না। আমরা দিনমজুর মানুষ, কাজ না করলে সংসার চলে না। এই পানি না কমা পর্যন্ত গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হতেও পারব না।


সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা আলম জানান, বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে য্ওায়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। অনেক জরুরী কাজে বাহিরে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়েও যানবাহনের সংকটে আটকা পড়ে আছি। 


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই ইউনিয়নের পাশে খাল রয়েছে। প্রভাবশালীদের কারণে খালটি প্রায় দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে পানি নামার জায়গা নেই। এদিকে গতরাত থেকে ভারী বৃষ্টির ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

অনেকের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আমার ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু পানি অপসারণের সুযোগ নেই। তবে ভারী বৃষ্টি আর না হলে পানি কমে যাবে।

সম্পর্কিত বিষয়: