নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

২২ জুলাই ২০২৪

অস্থির ডিমের বাজার, পেঁয়াজের সেঞ্চুরি : সবজির বাজারও অভিন্ন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২৩:১২, ২৮ জুন ২০২৪

অস্থির ডিমের বাজার, পেঁয়াজের সেঞ্চুরি : সবজির বাজারও অভিন্ন

নারায়ণগঞ্জ নগরীর বাজারগুলোতে কমছে না ডিমের দাম অন্যদিকে বিক্রেতারা পেঁয়াজের কেজি হাঁকাচ্ছে ১০০ টাকা করে। ৬০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। চড়া দাম বেশকিছু নিত্যপণ্যেও। বাজারে সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় খরচের লাগাম টানতেই কম পরিমাণে কিনছেন বাজারে আসা ক্রেতাগণ। যতটুকু না হলেই নয় ততটুকুতে সীমিত রাখছেন কেনাকাটা।

বিক্রেতারাও পণ্যের দাম বেশি স্বীকার করে জানান, সবকিছুর দাম বেশি বলে ক্রেতারা কিনতে পারছেন না। এমনকি তারাও (বিক্রেতা) পাইকারি বাজার থেকে আগের মতো কিনছেন না।

শুক্রবার (২৮ জুন) কালির বাজার, দিগুবাবুর বাজারসহ ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও অন্য সময়ের মতো কেনাকাটা নেই। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নিজেদের কেনাকাটায় সংযত হতে হয়েছে তাদের।

বাজার করতে এসেছেন গৃহিণী সুখী আক্তার। তিনি বলেন, সবজির দাম আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটা সত্যি বলতে আমাদের ওপর চাপ হয়ে যাচ্ছে। আগে আমি পটোল কিনতাম ২ কেজি করে, আজকে কিনলাম আধা কেজি। অন্যান্য সবজিও অল্প অল্প কিনেছি। আমার মতো সবারই একই অবস্থা। কেউই ঠিকমতো কিছু কিনতে পারছে না।

এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম পৌঁছেছে ১০০ টাকায়। আজকে আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ছোট আকারের পেঁয়াজ ৯০ টাকা এবং বড় আকারের ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা করে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে। 
এছাড়া আজকে লাল আলু ৬০ টাকা, সাদা আলু ৬০ টাকা, বগুড়ার আলু ৮০ টাকা,  নতুন দেশি রসুন ২২০ টাকা, চায়না রসুন ২০০-২২০ টাকা, চায়না আদা ৩০০ টাকা, ভারতীয় আদা ৩০০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে সবজির বাজারের চিত্রও অভিন্ন। এখানেও বিক্রির পরিমাণ কমেছে। বেশিরভাগ সবজির দামই আজকে বেড়েছে। কমেছে অল্প কয়েকটি সবজির দাম। আজকের বাজারে টমেটো ২২০-২৪০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৯০ টাকা, শসা ১২০-১৪০ টাকা, উচ্ছে ৮০-৯০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটোল ৫০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০-৯০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-১১০ টাকা।

মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ টাকা, এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা করে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি পেঁয়াজের মৌসুম যত শেষের দিকে যাচ্ছে, দাম তত বাড়ছে। আগামীতে এ দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

দাম বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম বেড়েছে ৯০ টাকা। আর উচ্ছে, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙা, কচুর লতি, চাল কুমড়ার দাম বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সাদা ও কালো গোল বেগুনের দাম কমেছে ১০ টাকা। কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতার দাম কমেছে যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৫০ টাকা। বাদবাকি সবজির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। 

বাজারে আসা গার্মেন্ট কর্মী সরোয়ার বলেন, কেনাকাটা আগের চেয়ে কমিয়ে দিয়েছি। আগে আলু কিনতাম ৫ কেজি করে, পেঁয়াজ কিনতাম ৩ কেজি করে। এখন আলু কিনি ২ কেজি, পেঁয়াজ কিনি ১ কেজি করে। কম খরচ করার চেষ্টা করছি। সবকিছুর দাম বাড়াতে আমাদের বাজারের খরচে লাগাম টানতে হয়েছে।

বিক্রেতা আলিম বলেন, মানুষের কেনাকাটা আসলেই কমেছে। আর পেঁয়াজের দাম হুট করে বেড়ে যাওয়ায় যেটার দাম কম সেটাতেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা। ছোট যেই ক্রস পেঁয়াজ আছে সেটা আমার বেশি বিক্রি হচ্ছে। অন্য পেঁয়াজের থেকে এটার দাম ১০ টাকা কম।

অন্যদিকে আজকের বাজারে ইলিশ মাছ ওজন অনুযায়ী ১৬০০-২২০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০-৬৫০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, কালিবাউশ ৫৫০ টাকা, চিংড়ি মাছ ১০০০-১৪০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২২০-৩০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪৫০-৮০০ টাকা, টেংরা মাছ ৫০০-৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০-১৪০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ৮০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, মাছের দাম বেশি থাকার কারণ হচ্ছে এখন আগের মতো নদী বা বিলে মাছ পাওয়া যায় না। অনেক জেলে বিষ দিয়ে মাছ মারে, তাই অনেক মাছ প্রায় হারিয়েও যাচ্ছে, যেমন আইড় মাছ। আগে নদীতে জাল ফেললে প্রচুর চিংড়ি মাছ উঠতো, এখন আর ওঠে না। এই কারণেই চিংড়ির দাম হাজার টাকার ওপরে।

এদিকে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকা কেজি দরে। এই দুই মাংসের দাম আর কমছেই না। 

আর ডিমের দামও অস্থির। খুচরা পর্যায়ে ক্রেতাকে ডিমের ডজনে গুনতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। পাইকারিতে ডিমের পিস প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা ৫০ পয়সা। পাড়া-মহল্লায় ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা। 

এছাড়া আজকে সব ধরনের মুরগির মাংসের দামই কমেছে। আজকে ওজন অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগি ১৭২-১৭৫ টাকা, কক মুরগি ২৭৫-২৯৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০-৬২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

এক্ষেত্রে দেখা যায় ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ১৫ টাকা, কক মুরগির দাম কমেছে ২৫ টাকা, দেশি মুরগির দাম কমেছে ৮০-১০০ টাকা ও লেয়ার মুরগির দাম কমেছে ৫০ টাকা।

এদিকে, অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম ওঠানামা করলেও মুদি দোকানের পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। আজকে প্যাকেট পোলাওর চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওর চাল মানভেদে ১১০-১৪০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৬০ টাকা,  ছোট মুগ ডাল ১৮০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ডাবলি ৮০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৭ টাকা।

কৌটাজাত ঘি ১৩৫০ টাকা, খোলা ঘি ১২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৪০০০ টাকা, লবঙ্গ ১৬০০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৬০০ টাকা ও কালো গোলমরিচ ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়: