নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

২০ অক্টোবর ২০২১

নগরীর মাছ বাজারের উচ্ছিষ্টে শীতলক্ষ্যা ওয়াকওয়ে ময়লার ভাগাড়

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:৩১, ১০ অক্টোবর ২০২১

নগরীর মাছ বাজারের উচ্ছিষ্টে শীতলক্ষ্যা ওয়াকওয়ে ময়লার ভাগাড়

শীতলক্ষ্যার শীতল হাওয়ায় সামান্য প্রশান্তি যেন দূর করে দেয় সারাদিনের ক্লান্তি । নগরবাসীর স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেষে ওয়াকওয়ে। নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নির্মল পরিবেশ উপভোগে বিপুল অর্থ খরচ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয় । কিন্তু সেই নয়নাভিরাম ওয়াকওয়ে এখন যেন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। বিশেষ করে ৩নং ঘাটের মাছ বাজারের আবর্জনায় ওয়াকওয়ে ঘিরে তৈরী হয়েছে বৃহৎ ডাম্পিং স্পট। বাড়ছে শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ।                      

      
নারায়ণগঞ্জ শহরের সর্ববৃহৎ মাছ বাজার ৩নং মাছ ঘাট। এ মাছ ঘাটের সকল আবজর্নাসহ ঘাটের পার্শ¦বর্তী এলাকার আবর্জনা ওয়াকওয়ের পাশেই ফেলা হয়। ফলে যেখানে শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে নিতে যায় মানুষ, সেখান থেকে দুর্গন্ধে ফিরে আসে।


সরজমিনে দেখা যায়, শহরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নকশা করা টালি বিছিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরী করা হয়েছে। নদীর ঢাল কংক্রিটে বাঁধা। পথচারীদের বসার জন্য রয়েছে কংক্রিটের বেঞ্চ। কিন্তু পুরো ওয়াকওয়ের একাধিক স্থানে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। হরেক রকমের বর্জ্যের ছোট বড় স্তূপ। বিশেষ করে মাছ বাজারের বর্জ্য। প্রতিদিনই পুরো ঘাটের বর্জ্য সহ মাছ বাজারের শুকনো বর্জ্য আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পঁচা বর্জ্যের সঙ্গে কালো ধোঁয়ায় পার্শ¦বর্তী পথচারীদের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। এ বর্জ্যরে অংশাবিশেষ ফেলা হয় নদীতে। 

 


সারাদিনের মাছ বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলছেন রাজু। তার সাথে কথা হলে জানা যায়, প্রতিদিন বাজার সহ আশে পাশের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলেন তিনি। বর্জ্য জমে জমে টিলায় পরিণত হলে আগুন জালিয়ে দেওয়া হয়। আবর্জনার ছাই পরবর্তীতে নদীতে ফেলা দেওয়া হয়। বছরের পর বছর একইভাবে এই কার্যক্রম চলছে। ময়লা আবর্জনায় আশেপাশের পরিবেশ দূষণ হলেও কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 


বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এই বিষয়ে বলেন, নদীর তীরে পাশের জায়গার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর। কিন্তু পরিচ্ছন্নতার এই কার্যক্রম এই দপ্তর থেকে করা হয়না। তবে নদীর তীরবর্তী জায়গা দখল হলে উচ্ছেদ অভিযান করে থাকে বিআইডব্লিউটিএ।


 
শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে বেড়িয়ে প্রশান্তির খোঁজে নদীর তীরে ছুটে আসেন নগরবাসী। তবে এখানে এসে ভিন্ন ভিন্নচিত্রের দেখা পান নগরবাসী। ৩নং মাছ বাজারের পাশে দেখা হয় আমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি পেশায় আইনজীবী। ওয়াকওয়ের উপর দিয়েই হন হন করে হেঁটে চলছিলেন। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, শীতলক্ষ্যার পাড়ের ওয়াকওয়ের শুরুর দিকের সৌন্দর্য্য এখন আর নেই। ওয়াকওয়ে হয়েছে ময়লার ভাগাড়। বিকেলে এখানে অনেকেই নদীর পাড়ে দিয়ে হাঁটতে আসেন, বসেন। কিন্তু এখন শহরের মতো এখানেও যত্রতত্র ময়লা ছড়িয়ে আছে। এজন্য যেই প্রশান্তির আশা করে তারা ছুটে আসেন অনুরূপ প্রশান্তি নেই। বিশেষ করে মাছ বাজারের উচ্ছিষ্টের তীব্র দূর্গন্ধেতে পথচারীরা এখানে দাড়াতে পারে না।

 


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এ বি সিদ্দিক বললেন, নদীর তীরের ওয়াকওয়ে মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু নদীর তীরের ওয়াকওয়ে আবর্জনার কারণে দূষণ হচ্ছে। নদী রক্ষার আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে শীতলক্ষ্যা তার যৌবন হারাচ্ছে। বাপার পক্ষ থেকে নদী দূষণরোধ সহ নদীর তীর পরিচ্ছন্ন রাখতে দাবি করা হয়েছে। 

 


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হিরন এ বিষয়ে বলেন, ৩নং মাছ বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্নের দায়িত্ব আমাদের নাহ, যারা ইজারা দিয়েছে তাদের। বিআইডব্লিউটিএর নিয়ন্ত্রাধীন সকল এলাকা পরিচ্ছন্ন করার দায়িত্ব তাদের। আমরা অন্যান্য ঘাটের নিকটবর্তী ওয়াকওয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন করি। তবে বিশেষদিনে সকল ঘাট সহ ওয়াকওয়ে পরিচ্ছন্ন করে সিটি করপোরেশন হয়। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: