নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও শালিকাকে কুপিয়ে জখম, পাষন্ড স্বামী আটক  

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:০৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বন্দরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ও শালিকাকে কুপিয়ে জখম, পাষন্ড স্বামী আটক  

বন্দরে যৌতুকের দাবিতে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূসহ ২জনকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় পাষান্ড স্বামী পাভেল ওরফে আলো (৪০)কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে স্থানীয় জনতা ।

আটককৃত পাভেল পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার পারশাতুলিয়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পিতা রুহুল আমিন খন্দকার (৬৫) বাদী হয়ে আটককৃত জামাতাকে আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা  দায়ের করেন।  

পুলিশ আটককৃতকে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উল্লেখিত মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে। এর আগে গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী)   বন্দর থানার রুপালী আবাসিক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭/ ১৮ বছর আগে পাভেল এর সাথে মামলান বাদীর বড় মেয়ে মুন্নি বেগমের  বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুইটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে মুন্নি বেগম ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জীবিকার তাগিদে তারা ঢাকার মিরপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই পাভেল যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি জানার পর বাদি ধাপে ধাপে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে দেন। এরপরও পুনরায় ১ লাখ টাকা দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৫ মাস পূর্বে  স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। 

এর ধারাবাহিকতা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় যৌতুক লোভী স্বামী পাভেল বন্দর থানার  রুপালী ৫নং গলিতে বাদীর ভাড়া বাসায় এসে আবারও ১ লাখ টাকা দাবি করেন।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই সময় পাষান্ড স্বামী পাভেল ঘরের খাটের নিচ থেকে একটি কুড়াল বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী স্ত্রী মুন্নির মাথার পেছনে কোপিয়ে মারাত্মক কাটা জখম করে। ওই সময় বড় বোন মুন্নিকে রক্ষা করতে তার ছোট বোন মিথিলা আক্তার মুক্তা

এগিয়ে আসলে ওই সময় পাভেল ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট বোন মিখিলা আক্তার মুক্তাকেও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত কাটা জখম করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাষান্ড স্বামী পাভেলকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে স্থানীয় জনতা।

পরে আহত দুই বোনকে উদ্ধার করে জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।