নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আবদুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভূমি সংক্রান্ত দালালি, প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তদবির বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোট-টাই ও কালো চশমা পরে কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো আইনজীবী পরিচয়ে বিভিন্ন ভূমি অফিসে ঘোরাফেরা করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মুরাদপুর এলাকার জমত আলীর ছেলে আবদুল কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দালালি ও তদবিরের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মুরাদপুর এলাকার একটি পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি ও ফায়দা লোটার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগেও কুদ্দুস মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ভূমি অফিসে সাংবাদিক পরিচয়ে ঘোরাফেরা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি মদনপুর ভূমি অফিসে সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা এবং সুবিধা না পেয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কুদ্দুসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরোধে কুদ্দুসের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
সবশেষ মুরাদপুর এলাকায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কুদ্দুস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরাদপুর এলাকার মৃত ডেঙ্গুর আলী ভূঁইয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া তার মালিকানাধীন এসএ ৪৯ ও আরএস ৮০ দাগের জমি বড় ভাই নয়ন আলী ভূঁইয়ার কাছে বিক্রি করেন। জমি ক্রয়ের পর নয়ন আলী নিয়ম অনুযায়ী নিজের নামে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নয়ন আলী ভূঁইয়ার অভিযোগ, জমি বিক্রির পরও তার ছোট ভাই তোফাজ্জল হোসেনকে দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি কুদ্দুসের বিরুদ্ধে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন।
নয়ন আলী বলেন, “এসএ ৪৯ (আরএস রূপান্তর দাগ ৮০) একটি শুদ্ধ দাগ। এই দাগেই তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া জমি বিক্রি ও হস্তান্তর করেছেন। পেন্টোগ্রাফ অনুযায়ী সবকিছু সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমাকে ও আমার আত্মীয়দের সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে।” তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এসি ল্যান্ড কার্যালয়ে আপত্তি, পরে আদালতে মামলা
জানা গেছে, গত ৪ মে তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি শুনানির জন্য উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুনানির দিন তোফাজ্জল হোসেন নিজে উপস্থিত না থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে সেখানে পাঠান। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।
এরপর গত ২৭ আগস্ট তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বন্দর আমলী) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বড় ভাই নয়ন আলী ভূঁইয়া ছাড়াও ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মামলাটি সত্যিই মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, তা আদালতের বিচারাধীন বিষয়। এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দালালি, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার ও তদবির বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল কুদ্দুসের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।


































