নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে নাদিম আকন্দ (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি হাকিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হাকিম মোল্লার বাবার নাম মো. মাহাবুব মোল্লা। তার বাড়ি নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার গাছবাড়িয়া এলাকায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যবান্দি এলাকার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে নাদিম আকন্দের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই এলাকার বাতেনের বাড়িতে হাকিম মোল্লার ভাড়া নেওয়া সেমিপাকা টিনশেড ঘরের ভেতরে লাশটি পাওয়া যায়। বস্তা খুলে নাদিমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত নাদিম আকন্দের বাবার নাম মো. জসিম উদ্দিন এবং মায়ের নাম মোছা. পান্না আক্তার। তার স্থায়ী ঠিকানা কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকায়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে এজাহারের ভিত্তিতে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলামের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের ছয় ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি হাকিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাকিম মোল্লা জানান, একটি শিল-পাটার সাহায্যে নাদিমের মাথায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে নিজের দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তসাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে জানিয়েছে পুলিশ।


































