নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আলোচিত মাকসুদা বেগম (৬৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম (৩৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রথম আদালতে বিচারক ইয়াসিন আরাফাতের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
সাদ্দাম বন্দরের মাহমুদনগর এলাকার খোকন ওরফে তুরাগ আলীর ছেলে। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার একটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরের মাহমুদনগর এলাকায় মাকসুদা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
ভাঙারি ব্যবসার ১৯ লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভাঙারি ব্যবসার পাওনা ১৯ লাখ টাকা নিয়ে সাদ্দামের সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা নাদিমের ছোট দুই ভাই জজ মিয়া ও রাসেলের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা পরিশোধ না করে সাদ্দাম নানা ধরনের টালবাহানা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত সোমবার রাতে রাসেলের মা মাকসুদা বেগম সাদ্দামের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সাদ্দামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাসেলের ওপর হামলা চালান।
রাসেলকে কুপিয়ে জখম করার সময় তাঁর মা মাকসুদা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। একই ঘটনায় শফিকুল নামের আরেকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই মাকসুদা বেগমের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাদ্দামকে এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে সামাউন হাবিব, অলিদ, খোকন, তায়েম হাবিব ও সিয়ামের নাম উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, মাকসুদা বেগম হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি সাদ্দাম আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


































