নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।
দেড় ঘন্টা পর পুলিশ উভয়পক্ষকে চাষাঢ়ার কলেজ রোডে মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি তোলারাম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কলেজের অডিটোরিয়ামে সভা চলছিল। সেখানে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একে অপরকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন।
পাল্টাপাল্টি এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরে কলেজ রোড ও চাষাঢ়ায় সংঘর্ষে জড়ান তারা। উভয়পক্ষের লোকজনের হাতে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও বাঁশ দেখা যায়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসান দাবি করেন, তোলারাম কলেজের ভেতরে আমাদের নেতাদের মারধর করেছে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক উত্তাপকে ঘিরে এ ঘটনা ছাত্রদল ঘটিয়েছে। আমরা সেখানে গেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে আমাদের কয়েকজনকেও আঘাত করেছে। আমিও মাথায় আঘাত পেয়েছি।
তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক জুহাজ আহত হয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান অমিত।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের কর্মী তোলারাম কলেজের স্নাতক বাংলা বিভাগের ছাত্র তুহিন আহমেদ ও রবিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ছাত্রদল তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া।
তিনি দাবি করেন, তোলারাম কলেজে সভা চলছিল। সেখানে ওরা উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য দিয়ে গিয়েছে। আমরা বলেছি, এ ক্যাম্পাস সহাবস্থানে ছিল সহাবস্থানে আছে, কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা চলবে না। এজন্য আমাদের ছাত্রদলের ছেলে তুহিন আহমেদ ও রবিনকে ওরা মেরেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, তোলারাম কলেজে আলোচনা সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উভয়পক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে, তদন্ত করে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর এ এলাকায় যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, যারা এ কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


































