নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসলামপন্থী ভোটব্যাংকের নড়াচড়া।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও দশ দলীয় জোট সমর্থিত রিকশা মার্কার প্রার্থী আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে ফতুল্লা থানাকেন্দ্রিক যে ভোটবলয় তৈরি হয়েছে, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাতটি ইউনিয়ন ফতুল্লা,এনায়েতনগর,বক্তাবলী,কাশিপুর, কুতুবপুর,গোগনগর আলীরটেক ও ফতুল্লা থানা এলাকা ও গোগ ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেনের মূল ঘাঁটি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ মসজিদ রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে ধর্মভিত্তিক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে আজ শনিবার রাত ৯ টায় ফতুল্লার ভূঁইগড়ে প্রার্থী আনোয়ারের নির্বাচনী প্রতারণায় আসছেন আল্লামা মামুনুল হক।
নির্বাচনী মাঠের হিসাব বলছে, আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত ও আদর্শিক ভোট ব্যাংক মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ। এই ভোট মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—
১) তাবলীগ জামাত সংশ্লিষ্ট ভোট
২) মসজিদভিত্তিক ইসলামি ভোট
৩) ইসলামিক বক্স বা রিকশা মার্কার প্রতি আদর্শগত সমর্থন
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফতুল্লা থানায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার। এর একটি বড় অংশ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামিক রাজনীতির প্রতি সহানুভূতিশীল। ফলে এই ভোটগুলো যদি একীভূতভাবে রিকশা মার্কারে পড়ে, তাহলে তা নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
১২ হাজার চিল্লার সাথী: নীরব কিন্তু কার্যকর শক্তি
আনোয়ার হোসেনের পক্ষে সবচেয়ে সংগঠিত শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাবলীগ জামাতের প্রায় ১২ হাজার চিল্লার সাথীকে। মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, একজন চিল্লার সাথীর প্রভাব গড়ে ৮ থেকে ১০ জন ভোটারের ওপর পড়ে—আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সামাজিক বলয়ের মাধ্যমে।
এই হিসেবে শুধু চিল্লার সাথীদের মাধ্যমেই আনোয়ার হোসেনের পক্ষে প্রায় এক লাখ ভোট সংগঠিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মসজিদকেন্দ্রিক ইসলামিক ভোট ও ইসলামিক বক্সের প্রতি সমর্থন, যেখান থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৫০ হাজার ভোট পাওয়ার হিসাব কষছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ প্রার্থী আনোয়ারের পক্ষে মাঠে নামছেন মামুনুল হক, এতে বাড়ছে উত্তাপ।
সংশ্লিষ্ট ভোট ব্যাংককে আরও দৃঢ় ও কেন্দ্রীভূত করতে আজ শনিবার রাতে ফতুল্লার ভুইগর এলাকায় সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন ইসলামী বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দলটির আমিরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মামুনুল হকের সরাসরি মাঠে নামা শুধু আনোয়ার হোসেনের পক্ষে সমর্থন জোরদার করবে না, বরং ইসলামপন্থী ভোটারদের মধ্যে একটি আবেগী ও আদর্শিক ঐক্য তৈরি করবে। এতে রিকশা মার্কার ভোট একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
ইসলামিক ভোটের নতুন সমীকরণ
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনে ইসলামিক ভোট এবার আর বিচ্ছিন্ন কোনো উপাদান নয়, বরং একটি সংগঠিত ও হিসাবযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আনোয়ার হোসেনের দেড় লাখ ভোট ব্যাংক যদি কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আসনটির নির্বাচনী চিত্রে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শেষ পর্যন্ত মামুনুল হকের মাঠে নামা এই ভোটব্যাংককে সংসদীয় আসন নারায়ণগঞ্জ -৪ এ ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।


































