নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ভোটের মাঠে যে সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি ও জোট প্রার্থী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৯:৪৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ভোটের মাঠে যে সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি ও জোট প্রার্থী

আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৪জন প্রার্থী। এবং একজন জোটের প্রার্থী। তিনি খেজুর গাছ নিয়ে লড়ছেন। দিনরাত নানা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি ও জোটের এই ৫ প্রার্থী।

কিন্তু স্বস্তিতে নেই তারা। কারণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের কপালে চিন্তার ভাজ ফেলেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। যদিও দল থেকে তাদের বহিস্কার করা হয়েছে।

কিন্তু তারা বহিস্কারের বিষয়টিকে প্রহসন বলে মন্তব্য করেছেন। এবং মার্কা নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেয়ার আহবান জানাচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

এছাড়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪’র গণঅভ্যত্থানে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জেলাজুড়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জবর দখল, চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে।

তার উপর আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে মামলা ও মামলা বাণিজ্য উদ্বেগ বাড়িয়েছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। সাধারণ নিরিহ মানুষের পাশাপাশি এই সকল মামলা থেকে বাদ যায়নি বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরাও।  

এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি বেশ কয়েকজনকে বহিস্কার করেছেন। বিলুপ্ত করেছেন মহানগর ছাত্রদল ও কৃষক দলের কমিটি। ভেঙ্গে দিয়েছেন জেলা বিএনপির কমিটি। এসব ঘটনায় বিএনপি বাহাবা কুড়ালেও পুনরায় তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নেয়ার ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ মানুষ।

অপকর্মের অভিযোগে বহিস্কার হওয়া সেই নেতারা দলে ফিরে দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে প্রচার-প্রচারনায় মাঠে নামছেন। এতে বিএনপির প্রার্থীর জন্য পজেটিভ নাাকি নেগেটিভ হচ্ছে তা সময়ে বলে দিবে। 

অন্যদিকে আওয়ামীলীগের ভোট ফ্যাক্টর হবে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ের ক্ষেত্রে। কারণ ৫ আগস্টের পর আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা পালিয়ে গেলেও হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পায়নি সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাও। ফলে তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটাতে পারে। যা বিএনপির প্রার্থীদের জন্য দু:চিন্তার কারণ হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দিপু নারায়নগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী (খেজুর গাছ)।

এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: দুলাল। জাহাজ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তিনি। তিনি ভোট কাটবেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর।

এছাড়া যুবদল নেতা দুলালকে ঘিরে এন্ট্রি দিপু একটি ব্লক সক্রীয় রয়েছে নির্বাচনী মাঠে। এখানে দশ দলীয় জোট প্রার্থী হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা (দাঁড়ি পাল্লা)।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত তিনবারের সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দল তাকে বহিস্কার করেছে। কিন্তু কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তিনি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের ভোটে ভাগ বসাবেন আঙ্গুর।

ফলে বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হলে সুবিধা নিবে প্রতিদ্বন্ধি অন্য প্রার্থী। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এখানে দশ দলীয় জোট প্রার্থী হচ্ছেন ইলিয়াস মোল্লা (প্রতীক দাঁড়ি পাল্লা) 

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক তিনবারের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম (প্রতীক ঘোড়া) এবং সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (প্রতীক ফুটবল)। দুইজনই শক্তিশালী প্রার্থী। তবে রেজাউল করিম ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন স্থানীয় রাজনীতিতে। তার ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংকও রয়েছে।

ফলে সাবেক এই মন্ত্রী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। যদিও রেজাউল করিম ও গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপি দল থেকে বহিস্কার করেছে। কিন্তু বিএনপির মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ সক্রীয় রয়েছে তাদের পক্ষে। এখানে দশ দলীয় জোট প্রার্থী হচ্ছে জামায়াতের ইসলামীর ডা: ইকবাল হোসেন (প্রতীক দাঁড়ি পাল্লা)

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী দেয়নি। বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এখানে বিএনপির সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন (প্রতীক ফুটবল) ও বিএনপির সাবেক জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম (প্রতীক হরিণ) স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দুইজনকেই বিএনপি দল থেকে বহিস্কার করেছে।

কিন্তু তারা পিছু হটেননি। অন্যদিকে এই আসনে বিএনপির সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী (প্রতীক হাতি) রিপাবলিক পাটি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থী বিএনপি জোট প্রার্থীর ঘুম নস্ট করে দিয়েছেন। কারণ তিনজনই বিএনপির ভোটে ভাগ বসাবেন।

ফলে শেষ পর্যন্ত কে হারবে কে জিতবে এটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই আসনে। এখানে দশ দলীয় জোট প্রার্থী হচ্ছেন এনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন (প্রতীক শাপলা কলি)

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালামকে কেন্দ্র করে নেতাদের মধ্যে বিভাজন দৃশ্যমান। প্রত্যক্ষভাবে আবুল কালামের সাথে অনেক নেতাদের দেখা গেলেও পরোক্ষভাবে তাদের হিসেব ভিন্ন।

যা এলাকায় আলোচিত হচ্ছে। তাছাড়া নানা নাটকীয়তার পর আবুল কালাম বিএনপির টিকিট পেয়ে যায়। এটাতে কস্ট পেয়েছেন প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া প্রাথীর সমর্থক এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এই আসনে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মাকসুদ হোসেন (প্রতীক ফুটবল) ছাড়াও দশ দলীয় জোট প্রার্থী হচ্ছেন খেলাফত মজলিসের এবি এম সিরাজুল মামুন (প্রতীক দেয়াল ঘড়ি)।

প্রসঙ্গত: ২৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জোট প্রার্থীসহ বিএনপির ৫ জন প্রার্থীকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
 

সম্পর্কিত বিষয়: