নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিপু বাহিনীর অপকর্মে অতিষ্ঠ বন্দরের চাঁনপুরবাসী 

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:৩০, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দিপু বাহিনীর অপকর্মে অতিষ্ঠ বন্দরের চাঁনপুরবাসী 

বন্দরের মদনপুর চানপুরসহ আশপাশের এলাকাকে কুক্ষিগত পূর্বক স্ব-ঘৌষিত ডন বনে গেছেন কুমিল্লার দিপুর পরিবারসহ তার বাহিনী। বিগত স্বৈরচারী সরকারের সময়ে যুবলীগ নেতা অহিদের হয়ে পরিবহন সেক্টর, ড্রেজার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ এমন কোন হীন কাজ নেই যা করেননি। মাদক ব্যবসার শেল্টার, নিয়ন্ত্রণ, নিজের টর্চার সেল ছিল।

স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর এখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।হবিএনপির রাজনীতিকে কুলশিত করতে এক দিপুর পরিবার যথেষ্ট বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকসহ ত্যাগী নেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় লোক জানান, কুমিল্লা থেকে এখানে এসে যা ইচ্ছে তা করছে। চানপুরের  মাদক ব্যবসায়ী পীমা লাখি শফিকুল তাদেরকে শেল্টার দেয় তিন ভাই অপু, দিপু, মুন্না। যারা স্বৈরাচারী সরকারের দোসর অহিদের লোল ছিল। 

এছাড়াও তারা স্টানের অসহায় মানুষদেরকে নির্যাতন করে চাঁদা নেয়। যদি কেউ বলে কিসের চাঁদা দিব তাহলে তাদেরকে মারধর করে ও টর্চার করে তারা এভাবেই দিনের পর দিন জুলুম করে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য  যৌথ বাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন করেন মুন্নার সহপাঠি মিলন। চাঁদাবাজি করার সময় বন্দর থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছে।  প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাংখিত ঘটনা।  যে খানে কথা বলার আগে চলে রক্তের ঘটনা।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ের চাঁদাবাজদের রের্কড ভঙ্গ পূর্বক দিপুর সেন্ডিকেটের কাছে সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রণে। মদনপুর চৌরাস্তার ফুট ওভার ব্রীজের নীচ থেকে কাঁচা বাজার, বিভিন্ন গারীর দোকান, পসরা বসিয়ে ৩ হাজার করে টাকা নিচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ব্রীজের নিচে থেকে প্রতিমাসে  চাঁদা তুলছে মুন্না। প্রায় ৩৫ /৪০ টি দোকান থেকে মাসে ৩ হাজার করে  টাকা নিচ্ছে। মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা একটি সেক্টর থেকে চাঁদা আদায় করলেও প্রশাসনের ভূমিকা রহস্যময়।   

আলামিন, মাইনুদ্দিন, নয়ন, মাসুদ, রিদয়, হাসান, মিলন, সাহাদাত, জোনাইদ, আমিনুল, সাইফুল, রবিউল, নাছির, ইয়ামিন, চাঁন মিয়া, মফিজুল, বাবু,  শফিকুল, রাজু, হাসান, সাইদুল, আবজল, লুতফর, মুছা দোকানদার।  

দোকানদারদের এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন ভাই আমাদের পেটে লাথি মাইরেন না।  টাকা ছাড়া যেখানে গাছের পাতা নড়ে না সেখানে দোকানদারী কিভাবে করি তা বলার প্রয়োজন পড়ে না। 

কে বা কারা টাকা নেয় এমন প্রশ্নে তারা বলেন এগুলো আপনারা জানেন দয়া করে আমাদের আর কোন প্রশ্ন কইরেন না। জানতে পারলে ওরা আমাদের দোকান বন্ধসহ পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারবো না।

সূত্র মতে, মদনপুর চাঁনপুরস্থ এশিয়ান হাইওয়ের রাস্তার পাশে দোকানীদের থেকে যেভাবে টাকা নিচ্ছে বাদ পড়ছে না পরিবহন সেক্টর। 

চাঁনপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট বহু অপকর্মের হোতা দিপু বাহিনীর কাছে সকলে নীরব। দিপুর ভাই মুন্না,  নূর নবী ও মাঈনুদ্দিন বড় অটো থেকে ৫০ টাকা সিএনজি (ফোর স্টক) গাড়ি থেকে তোলা ১০০ টাকা ছোট মিশু গাড়ি থেকে তোলে ২০ থেকে ৩০ টাকা কইরা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে বন্দরে দায়িত্বরত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রির্পোটে প্রকাশের আংশিক তথ্য। 

দোকানীদের থেকে মাসে প্রায় দেড় লাখ, পরিবহন সেক্টর হতে মাসে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে।  কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে চাঁদা আদায়ের বিষয়টিকে হার মানিয়ে কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে।  

আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর বিষধ রুপ ধারন করবে তারা এমনই শংকার বিষয়টিও নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে সর্বমহল। ৫ আগস্টের পর থেকে দিপু বাহিনী যে তান্ডব লীলা চালিয়েছে তা রাজাকারদের ভূমিকাকেও হার মানিয়েছে।  

লুটপাট, অগ্নিসংযোগ করে সর্ব মহলে বেশ দাপটে সমালোচিত দিপু বাহিনী। খলিলুর রহমান খলিল মেম্বারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ,লোপাট পূর্বক প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে বলে থানায় অভিযোগ হয়েছিল। 

শুধু খলিল নয়, চানপুরস্থ যতগুলো মার্কেট একাতা সুপার মার্কেটসহ উভয় পাশের মাকেট ও ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে মাদক সম্রাট দিপু এখন স্বঘোষিত সম্রাট /ডন।

এ বিষয়ে জানতে ধামগড় ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শকের নাম্বারে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি। থানা পুলিশের পরিদর্শক বিষয়টি আমলে নিয়ে জানান, আমি কিছুদিন যাবত যোগদান করেছি। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  

চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক সম্রাটের সাথে কোন সখ্যতা নেই। আমাদের কেউ তাদের থেকে সুবিধা নিলে তাকেও ছার দেয়া হবে না।

এদিকে দিপু বাহিনীর তান্ডব লীলা ও সন্ত্রাসীদের জনপদ শান্ত রাখতে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যৌথবাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: