নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০২ আগস্ট ২০২১

সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের দাবিতে

নারায়ণগঞ্জে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মানববন্ধন       

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২১:০৬, ১৩ জুন ২০২১

নারায়ণগঞ্জে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মানববন্ধন       

অসাম্প্রদায়িক বাংলার সংস্কৃতি বিকাশের স্বাার্থে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেছে চারণ সাংস্কৃতি কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। রোববার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলার সংগঠক প্রদীপ সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় ইনচার্জ বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, কবি রঘু অভিজিৎ রায়, এই বাংলা নাট্য থিয়েটারে অর্থ সম্পাদক দিদার হোসেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জের্লা সভাপতি সুলতানা আক্তার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক জামাল হোসেন, সেলিম আলাদীন।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার গত ৩ জুন ৬ লক্ষ কোটি টাকার উপরে একটি বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছে। এই বিশাল বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ মাত্র ০.০৯৭ শতাংশ। এতে সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত সকলে ভীষন হতাশ হয়েছে। একদিকে সরকার বলছে মৌলবাদ-জঙ্গীবাদকে প্রতিহত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করতে হবে। 

অথচ সংস্কৃতি খাতে এত কম বরাদ্দ তাদের বক্তব্যের সাথে অসংগতিপূর্ণ। একসময় বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে লোক কবিদের ব্যাপক প্রাধান্য ছিলো। নাটক, কবিগান, জারি-সারি-যাত্রা সহ বিভিন্ন লোকজ উৎসবের আসর বসতো । মৌলবাদী তৎপরতায় ও সরকারের অবহেলায় এগুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। বাউলরা প্রতি পদে পদে আক্রান্ত হচ্ছে। 

শরীয়ত বাউলকে ডিজিটাল  নিরাপত্তা আইনে জেলে যেতে হয়েছে। একসময়ে বাংলার অসাম্প্রদায়িক লোক সংস্কৃতিই মৌলবাদকে বাড়তে দেয়নি। আজ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মৌলবাদী সংস্কৃতির পৃষ্টপোষকতা ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ মৌলবাদ-জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। এই করোনাকালে বহু শিল্পী মানবেতর জীবনযাপন করছে। মৌলবাদী ও ভোগবাদী আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে দেশে নারী-শিশু নির্যাতন, মাদকাশক্তি ও অপসংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, তাই অসাম্প্রদায়িক বাংলার সংস্কৃতি বিকাশের স্বার্থে জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ বরাদ্দ করা আজ সময়ের দাবি। এছাড়াও প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, কমপক্ষে ৫ হাজার সাংস্কৃতিক সংগঠককে প্রতি বছর ১ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান, প্রকৃত দুস্থ শিল্পীকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা অনুদান, জেলা ও মহানগরে অডিটোরিয়াম নির্মাণ, যাত্রামঞ্চ নির্মানের দাবি জানান ।
   
 

সম্পর্কিত বিষয়: